প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি মগ পানি ওযুর নামে অপচয় করছি নাতো আমরা?

যেদিন ৮/১০ তলার মানুষ বাসায় পানি পায় না!! সেই সব মানুষের কাছে এই ৫ কোটি মগ বিশুদ্ধ পানির মূল্য কতো বুঝি আমরা??

জাহিদ : অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা ওযুর সময় ট্যাব পুরো গতিতে ছেড়ে দিয়ে ওযু করি। তাতে ওযু করতে যে পরিমান পানি প্রয়োজন তার চেয়ে ৫/৭ গুন পানি অপচয় হয়! খেয়াল করে দেখবেন, ওযুতে আপনার এক মগ পানি লাগলে বেসিনে বা বেসিন ছাড়া ট্যাবে কিংবা টিউবওয়েলে আমাদের কমপক্ষে ৫ মগ পানির অপচয় করি আমরা। অর্থাৎ প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজে যদি এ দেশের এক কোটি মানুষও আদায় করে ৫ কোটি মগ পানির অপচয় করছি আমরা!

দেশব্যাপি পানির জন্য হাহাকার, পানির লেয়ার নিচে নেমে গেছে, মটোরে পানি উঠছে না, টিউবওয়েল চাপতে চাপতে জীবন শেষ, দেশজুড়ে বৃষ্টির জন্য নামাজ আদায় হচ্ছে, আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করা হচ্ছে পানির জন্য। ঢাকায় কতো অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির জন্য আর্তনাদ। যেদিন ৮/১০ তলার মানুষ বাসায় পানি পায় না!! সেই সব মানুষের কাছে এই ৫ কোটি মগ বিশুদ্ধ পানির মূল্য কতো বুঝি আমরা??

অথচ একটু সাবধান হলেই, কিংবা তাকওয়া বা আল্লাহকে ভয় করলেই এ অপচয় রোধ করা সম্ভব।

কার নামে পানির অপচয় করছি আমরা? ওযুর অপচয় কি আল্লাহ অপচয় হিসেবে গননায় ধরবেননা!

হয়তো বেশিই ধরবেন। কারন, যারা আল্লাহর নাম নেয়না তাদের কাছে আল্লাহর প্রত্যাশাও কম। আমরা যারা আধা পাপি, আধা ধার্মিক তাদের কাছেই আল্লাহর প্রত্যাশা বেশি।

ওযুর সময় অপচয় রোধে যা করতে পারি-
১। ট্যাবে সরাসরি ওযু না করে এক মগ ভরে নিতে পারি এবং তা দিয়ে ওযু করতে পারি।
২। টিউবওয়েলেও একই ভাবে মগ ভরে নিতে পারি।
৩। ট্যাবে প্রতিক্ষেত্রে পানির গতি কমিয়ে দিয়ে ওযুর প্রতিটি কাজে ট্যাব বন্ধ করে দিতে পারি (যেমনঃ হাতের কবজি ধুতে প্রতিবার আলাদা করে পানি নিয়ে ট্যাব বন্ধ করে দিতে পারি। একইভাবে কুলি,নাক, হাত, মুখ,মাসেহ করতে পারি।
৪। ট্যাবের নিচে একটা মগ রেখে দিতে পারি হাতের কবজি ধোয়ার শেষেই। কিছুক্ষন পরেই ভরে যাবে বা অর্ধেক ভরলে বন্ধ করে দিয়ে যে পানি মগে জমা হবে তা দিয়ে বাকি ওযু করতে পারি। ( মুষ্টিতে করে পানি মগের বাইরে এনে কাজ করলে মগে পরবেনা।)

মনে রাখতে হবে এখানে এক ঢিলে দুই পাখি স্বীকার হবে। প্রথমত পানির অপচয় রোধ। দ্বিতীয়ত এবং বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো খাস দিলে আল্লাহর ভয়ে এ কাজ করলে অন্তরে আল্লাহ ভীতি তাকওয়া বাড়িয়ে দিবে।

আল্লাহ আমাদের অন্তরের এ ভীতিকেই ভালোবাসেন।চলুন সামনের এই ওয়াক্ত থেকেই শুরু করি। ইসলামে ক্ষুদ্র কাজের পুরস্কার আল্লাহর কাছে অনেক বেশি।এখানেই ইসলামের সৌন্দর্য।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.