অক্সিজেন সংকট দূর করতে এগিয়ে এলো আবুল খায়ের গ্রুপ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় মেডিকেল অক্সিজেনের সংকট দূর করতে এগিয়ে এলো দেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ।
এ লক্ষে সরকারী উদ্যোগের সহযোগী হিসেবে সারাদেশের সরকারী হাসপাতাল ও করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় লিকুইড অক্সিজেন বিনামূল্যে সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া মেডিকেল অক্সিজেনের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডা ও স্পেক্টাকে অক্সিজেন সাপ্লাই দেওয়া শুরু হয়েছে। তাদের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পাবে দেশবাসী।
গত বুধবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ির শীতলপুর এলাকায় অবস্থিত একেএস অক্সিজেন কারখানায় এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির সিইও মো. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, অক্সিজেন প্ল্যান্টের জিএম মো. নজরুল ইসলাম, অক্সিজেন প্ল্যান্টের ডিজিএম এনপি গৌর, এজিএম মো. সামসুদ্দোহা এবং এইচআর এন্ড এডমিনের সিনিয়র ম্যানেজার ইমরুল কাদের ভূঁইয়া।
উদ্বোধনকালে কর্মকর্তারা জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারী শুরু হলে একেএস প্ল্যান্টে উৎপাদিত অক্সিজেন জনস্বার্থে উন্মুক্ত করে দেয় আবুল খায়ের গ্রুপ। প্রতিদিন ২৬০ টন অক্সিজেন উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন দেশের বৃহত্তম এই অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে ১০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে ও হাসপাতালকে বিনামূল্যে অক্সিজেন প্রদান করা হয়েছে রিফিলের মাধ্যমে। ৫ হাজারেরও বেশি সিলিন্ডার প্রদান করা হয়েছে। নিজস্ব উদ্যোগে ২০টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলাতেও একইভাবে সরকারের সহযোগী হিসেবে অক্সিজেন প্রদান করা হবে। এতোদিন দেশে মেডিকেল অক্সিজেন সাপ্লাইকারী প্রতিষ্ঠান লিন্ডা, স্পেক্টা আগে ভারত থেকে অক্সিজেন এনে সাপ্লাই করতো। কিন্তু ভারত এখন নিজেরাই সমস্যায় পড়ে যাওয়ায় অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়েছে। এতে লিন্ডা-স্পেক্টা মেডিকেল অক্সিজেন সাপ্লাই করতে পারছে না। তাই তাদেরকেও প্রয়োজনীয় সব অক্সিজেন প্রদান করবে আবুল খায়ের গ্রুপ। বুধবার বিকালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রতিষ্ঠান দুটিকে ২২ টন লিকুইড মেডিকেল অক্সিজেন সরবরাহ করা হযেছে।
এসব অক্সিজেন সরবরাহ থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হবে জানিয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, দেশের মানুষের প্রয়োজনে নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আবুল খায়ের গ্রুপের প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।
এরকম আবুল খায়ের গ্রুপের মতো সব শিল্পগ্রুপ মানবিক ও উদার হতো, তাহলে সরকারেরও কাজ করা অনেক সহজ হয়ে যেতো এবং মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যও অনেক কমে আসতো।
জয় বাংলা, জয় হোক, মানবতার।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.