লকডাউনে দেখতে উৎসুক জনতা

‘লকডাউন কেমন চলছে’ দেখতে বের হওয়া ২১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কাজীর দেউড়ির মোড়ে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নিউমার্কেট থেকে আসা একটি কালো প্রাইভেট কার থামাতে সংকেত দিল পুলিশ। গাড়িতে ছিলেন বন্দর কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া নাসির উদ্দিন নামের একজন। তিনি পুলিশকে জানালেন, বন্দরে যাচ্ছেন। পুলিশ বলল, ‘বন্দর তো এই দিকে না। তার ওপর আপনার গাড়ির কাগজপত্রও নেই।’

১০-১৫ মিনিটের পুলিশের সঙ্গে বন্দর কর্মকর্তার এই যে কথাবার্তা, তা দেখতে জড়ো হয় ১৫-২০ জন উৎসুক জনতা। পরে অবশ্য তাদের তাড়িয়ে দেয় পুলিশ। কাগজপত্র না থাকায় ওই গাড়িকে জরিমানা করতে দেখা যায় পুলিশকে। এ সময় অভিযানে ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক দক্ষিণ) মো. কামরুল ইসলাম, সার্জেন্ট সঞ্জয় ও আরাফাত।

কামরুল ইসলাম বলেন, গাড়ির কাগজপত্র না থাকায় মামলা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন জনকে জরিমানা করা হয়। যাঁদের মাস্ক ছিল না, তাঁদের মাস্ক দেওয়া হয়।

শুধু কাজীর দেউড়ি নয়, নগরের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়েও অভিযানের সময় উৎসুক জনতার ভিড় দেখা গেছে। এ সময় ২১ ব্যক্তিকে আটক করার পাশাপাশি পাঁচটি গাড়ি আটক এবং মামলা করা হয় ১০ গাড়ির বিরুদ্ধে।

এ সময় আগ্রাবাদ এলাকা পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সানা শামিমুর রহমান, উপকমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল ওয়ারীশ, সহকারী কমিশনার মাহমুদুল হাসান মামুন।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘সকাল থেকেই একটি চেকপোস্ট ও পাঁচটি টহল টিমের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া লোকদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করছি। পাশাপাশি অকারণে যাঁরা বের হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

‘লকডাউন কেমন চলছে’ দেখতে বের হওয়া ২১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, চট্টগ্রামে মানুষ সফলভাবে লকডাউন পালন করছে। কিছু রিকশাচালক মাস্ক পরেনি, তাদের আমরা বিভিন্ন জায়গায় মাস্ক দিয়েছি। কিছু মানুষও বিভিন্ন অজুহাতে মাস্ক পরছে না। তাদের জরিমানা করেছি।’

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.