ভার্চুয়াল বইমেলার চিন্তায় বাংলা একাডেমি!

 ভার্চুয়াল বইমেলার চিন্তায় বাংলা একাডেমি!

প্রতিদিন ডেস্ক : আসছে ২০২১ সালের বইমেলা ভার্চুয়ালিও হতে পারে। করোনা পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপের দিকে চলে যাওয়ায় ফিজিক্যাল মেলার পাশাপাশি ভার্চুয়াল মেলাকে মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলেছে। তবে ফিজিক্যাল মেলার দিকেই এখনও বাংলা একাডেমি ও প্রকাশকদের চিন্তাভাবনা বেশি। কিন্তু করোনা বিবেচনায় সেটা শেষ পর্যন্ত সম্ভব না হলে আগামী বইমেলা ভার্চুয়ালিও হতে পারে। আবার মেলা যদি ফিজিক্যালিও হয় সেক্ষেত্রে ভার্চুয়াল বিষয়টি থাকবে। কারণ প্রকাশকদের পক্ষ থেকে বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য অনেক আগ্রহপত্র জমা পড়লেও শেষ দিকে এসে মেলায় স্টলের জন্য আবেদন ও টাকা জমা দেয়ার হার তুলনামূলক কম।

এদিকে করোনা মহামারীর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসন্ন অমর একুশে বইমেলা স্থগিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাংলা একাডেমি।

শুক্রবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিজি বলেন, করোনার পরিস্থিতিতে বইমেলা না করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। যদি মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয় তাহলে সেটা কার্যকর হবে। করোনার কারণে আমরা এই প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আগামী ১৩-১৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বইমেলা পরিচালনা কমিটির একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই নানা বিষয় বিবেচনায় রেখে ফিজিক্যাল বইমেলার পাশাপাশি ভার্চুয়াল মেলা করার বিষয়টিকে জোর দেয়া হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয় করোনা পরিস্থিতিকে। বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রকাশকদের পক্ষ থেকে প্রায় সাড়ে চারশ’ আগ্রহপত্র জমা পড়ে। ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হয় মেলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রকাশকদের কাছ থেকে টাকা জমা নেয়ার কার্যক্রম। কিন্তু ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৩৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণের জন্য স্টল বাবদ টাকা জমা দিয়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত টাকা জমা দেয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণত শেষের দিকে টাকা জমা দেয়ার হার বেশি দেখা গেলেও অনেক প্রকাশকই যে মেলায় অংশগ্রহণের জন্য টাকা জমা দেবেন না সেটিও স্পষ্ট হচ্ছে এই শেষ সময়ে। কারণ বাংলা একাডেমির সূত্র বলছে, ৮০ ভাগ প্রকাশক অন্যান্য বার এই সময়ের মধ্যেই টাকা জমা দিয়ে দেন। এর হার এবার তুলনামূলক অনেক কম।

ভার্চুয়াল মেলার বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী যুগান্তরকে বলেন, মেলা ফিজিক্যালি হবে, না ভার্চুয়ালি হবে সেই বিষয়ে আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেলায় স্টল বরাদ্দের জন্য টাকা জমা দেয়ার দিন ধার্য করা রয়েছে।

সেটি শেষ হওয়ার পর কতগুলো প্রকাশনা অংশগ্রহণের জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়েছে তার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তবে আমি যুগান্তরের মাধ্যমে একটি বিষয় বলতে চাই, প্রকাশকরা আসলে সত্যিকার অর্থেই কী চান সেটি আমাদেরকে জানাবেন। আমি তাদের সব বিষয়ে উত্তর দিতে প্রস্তুত। জাতীয় কমিটির নানা মিটিংও ভার্চুয়ালি হবে বলে জানি। কারণ আমাদেরকে এটাও মাথায় রাখতে হবে, ফিজিক্যালি বইমেলা হলে আসলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লোক সমাগম কতটুকু সম্ভব। তাই আমি বলব যে সিদ্ধান্তই নেয়া হোক না কেন তার দায় যেন বাংলা একাডেমি, প্রকাশকসহ সবাই মিলেই নেই।

গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, করোনা পরিস্থিতি আগামী বইমেলায় সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে নেয়া হবে। তবে আমরা সব বিষয়েই প্রস্তুতি রাখছি।

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও অনন্য প্রকাশনীর প্রধান মনিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, করোনার এই সময়ে অনেক প্রকাশকের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। তাই আমরা বাংলা একাডেমির কাছে মেলার স্টল বাবদ অর্থ জমা দেয়ার বিষয়ে আরও সময় চাইব। আর আমাদের জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি ও পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পক্ষ থেকে করোনার এই সময়ে স্টল ভাড়া বিষয়ক একটি প্রণোদনার দাবি ছিল। আমরা মৌখিকভাবে সে বিষয়ে ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছি। এ বিষয়ে অগ্রগতিও বিবেচনায় রাখছি।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.