নতুন কৃষি আইনের বিরোধিতায় আজ ভারত বন্‌ধ

 নতুন কৃষি আইনের বিরোধিতায় আজ ভারত বন্‌ধ

• নয়ডা অভিমুখে যাত্রা করলে ডিএনডি ধরে এগোতে বলা হয়েছে। নয়ডা লিঙ্ক রোড সংলগ্ন চিলা সীমানাও বন্ধ রয়েছে।

• বন্‌ধের মধ্যে জনজীবন সচল রাখতে দিল্লিতে যান চলাচলের রুটে ব্যাপক পরিবর্তন। দিল্লি-হরিয়ানার সংযোগস্থল সিঙ্ঘু সীমানা বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অউচঁদি, পিয়াউ মনিয়ারি এবং মঙ্গেশ সীমানাও। দুই দিক থেকে বন্ধ ৪৪ নম্বর জাতী সড়ক। তারপ বদলে লামপুর। সফিয়াবাদ, সাবোলি সীমানা হয়ে ঘুরে যেতে হবে। মুকারবা এবং জিটিকে রোড থেকে সমস্ত গাড়ি ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আউটার রিং রোড, জিটিকে রোড এবং ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। ঝটি

• টিকরি, ঝারোদা সীমানা। ধানসায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বদুসরাই সীমানা দিয়ে শুধুমাত্র প্রাইভেট গাড়ি এবং দু’চাকার যান চলেচলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ঝটিকারা সামীনা খোলা থাকছে শুধুমাত্র দু’চাকার যান চলাচলের জন্য।

দেশ জুড়ে বন্‌ধের ডাক। তবে, সাধারণ মানুষের সমস্যা তৈরি না করেই বন্‌ধ পালিত হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কিসান সংগঠন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত চাক্কা জ্যামও চলবে। বিজেপি-বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই কৃষকদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু বন্‌ধ চলাকালীন কোনও রাজনৈতিক দলকেই মঞ্চে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কৃষকরা।

প্রায় তিন মাস ধরে বিতর্কিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন কৃষকরা। প্রথমে পঞ্জাবের মধ্যেই আন্দোলন সীমাবদ্ধ ছিল। সপ্তাহ দুয়েক আগে তা এসে পৌঁছয়ে রাজধানীতে। দিল্লি-পঞ্জাব এবং দিল্লি-হরিয়ানা সীমানাতেও অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক। উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ থেকেও দলে দলে কৃষক এসে তাতে যোগ দিয়েছেন।

বিক্ষোভ ঠেকাতে লাঠিচার্জ থেকে শুরু করে জলকামান, কোনও কিছুই বাদ রাখেনি পুলিশ। দিল্লির ঠান্ডার মধ্যেও সে সব হজম করে গিয়েছেন কৃষকরা। পুলিশের মোকাবিলা করতে গিয়ে কখনও আন্দোলন হিংসাত্মক আকার ধারণ করেনি। তাই বন্‌ধ কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে কোনও রকম অশান্তি দানা না বাঁধে, সে ব্যাপারে সচেতন তাঁরা।

সংখ্যার জোরে সংসদে তর্কবিতর্ক এড়িয়ে কিতর্কিত কৃষি বিল পাশ করিয়ে নেয় মোদী সরকার। তার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলে, তা আইনে পরিণত হয়। কিন্তু নয়া কৃষি আইনের বিরোধিতায় গোটা দেশে অচলাবস্থা তৈরি হবে, তা বোধহয় আঁচ করতে পারেনি কেন্দ্র। তাই তিন মাস আগে পঞ্জাবে আন্দোলন মাথাচাড়া দিলেও শুরুতে আমল দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি তারা। কিন্তু সেখান থেকেই স্ফুলিঙ্গ এখন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। তারই ফলশ্রুতি হিসেবে মঙ্গলবার ভারত বন্‌ধ।

মূলত তিনটি আইন নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন কৃষকরা। প্রথমত, সংশোধিত অত্যাবশ্যক পণ্য আইন। এর আওতায় আলু, পেঁয়াজ, ডাল, দানাশস্য, তৈলবীজ প্রভৃতিকে অত্যাবশ্যক পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একমাত্র যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি দেখা না দিলে,বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি ওই সমস্ত পণ্য যত খুশি মজুত রাখতে পারে। তাতেই আপত্তি কৃষকদের। তাঁদের আশঙ্কা, এই আইনকে কাজে লাগিয়ে ফুলেফেঁপে উঠবেন অম্বানি-আদানিরা। কারণ ফসল ওঠার সময় দেশের অধিকাংশ ছোট চাষি কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেশির ভাগ ফসল হিমঘরে মজুত করে রাখবেন বড় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিরা। এর ফলে বাজারে অত্যাবশ্যক পণ্যের কৃত্রিম অভাব তৈরি হবে। তখন মাত্রাছাড়া দামে মজুত করে রাখা ফসল বাজারে ছাড়বে ওই সংস্থাগুলি।

কৃষকদের ক্ষমতায়ন, ন্যায্য মূল্যের আশ্বাস এবং খামার পরিষেবা চুক্তির আইন, এই দ্বিতীয় আইনটি নিয়েও তীব্র আপত্তি কৃষকদের। এই আইনে বড় বড় সংস্থাগুলি চুক্তির মাধ্যমে কৃষকদের যে কোনও ফসল উৎপাদন করাতে পারে বলে বলা রয়েছে। তাতে চাষিরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন বলা থাকলেও, তা সুনিশ্চিত করার কোনও সদুপায় বাতলানো নেই। ফসলের দাম নির্ধারণের কোনও উপায়ের কথাও উল্লেখ নেই তাতে। তৃতীয় আইনটি হল, বাজার বা মাণ্ডির বাইরেও যে কোনও ব্যবসায়ী বা কর্পোরেট সংস্থার কাছে কৃষকদের ফল বিক্রি করার অধিকার। এত দিন ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করা ছিল। মাণ্ডি থেকে ফল কিনতে হলে তা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন আইনে সরাসরি কৃষকের থেকে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা ফসল কিনতে পারবেন বলা হয়েছে।

কিন্তু ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের কথা বলা নেই বলে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। তাঁদের আশঙ্কা, প্রথমে বেশই দাম হেঁকে তাঁদের প্রলোভিত করতে পারে বড় বড় সংস্থাগুলি। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বালাই না থাকায় ফসল কেনার ক্ষেত্রে সরকারও গড়িমসি করতে পারে। ঠিক মতো টাকা পাওয়া না গেলে মাণ্ডিতে যাওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন কৃষকরা। সে ক্ষেত্রে সমস্ত কৃষিপণ্যের একমাত্র ক্রেতা হবে বড় বড় সংস্থাগুলি। বাধ্য হয়ে তাই তাঁদের ঠিক করে দেওয়া দামেই ফসল বিক্রি করতে হবে কৃষকদের।

সরকারের তরফে এ নিয়ে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও, আইন প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড় কৃষকরা। তা নিয়ে দফায় দফায় কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে কৃষকদের প্রতিনিধই দলের। কিন্তু আইন সংশোধনে রাজি হলেও, তা প্রত্যাহারে সম্মত হয়নি সরকার। তাই নিজেদের দাবিতেই অনড় কৃষকরা। এ ব্যাপারে সকলের সমর্থন পেতেই ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার এ নিয়ে ফের সরকারের সঙ্গে একদফা বৈঠক রয়েছে তাঁদের। সকলের সহযোগিতায় বন্‌ধ সফল হলে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে আরও সুবিধা হবে বলে মনে করছে কৃষক সংগঠনগুলি।- সূত্র: আনন্দবাজার

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.