করোনার থাবায় বন্ধ ৮ হাজারের বেশি কারখানা

 করোনার থাবায় বন্ধ ৮ হাজারের বেশি কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক : কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) তথ্যানুযায়ী দেশে মোট কারখানার সংখ্যা ৫৮ হাজার ৮৩৬টি। সংস্থাটির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, করোনার প্রভাবে এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৮ হাজার ২৯টি। বন্ধ হওয়া কারখানার তালিকার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের ৭১৩টি আর অন্য খাতের রয়েছে ৭ হাজার ৩১৬টি।

এসব কারখানা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মার্চ মাসে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বন্ধ হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে এ তালিকা প্রকাশ করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর (ডিআইএফই)। সব কারখানাই করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়েছে তা নয়। করোনার আগে থেকেই বেশ কিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, তালিকায় থাকা কারখানার বেশির ভাগই করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কী পরিমাণ কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান ডিআইএফইর কাছে নেই। ডিআইএফইর যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. সামশুল আলম খান বলেন, বন্ধ হওয়ার তালিকায় থাকা কারখানাগুলোর বেশির ভাগই করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়েছে।

তবে করোনাভাইরাসের পর এখন পর্যন্ত কত কারখানা বন্ধ হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। তিনি বলেন, বন্ধের তালিকা আগে থেকেই নিয়মিত হালনাগাদ করে আসছে ডিআইএফই। করোনার আগে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল। এছাড়া তৈরি পোশাক কারখানার বাইরে অন্য কারখানাগুলো মূলত করোনাকালেই বন্ধ হয়েছে বেশি।

এদিকে ডিআইএফইর তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া এসব কারখানায় শ্রমিক ছিল ১৭ লাখ ১০ হাজার ২২১ জন। কারখানা বন্ধ হওয়ায় এসব শ্রমিকেরও চাকরি হারানোর কথা। ডিআইএফইর তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া কারখানার বেশির ভাগই গাজীপুর অঞ্চলে। এই এলাকায় বন্ধ হয়েছে ২ হাজার ২২৪টি কারখানা। এর মধ্যে গার্মেন্টস কারখানা ৬৪২ ও গার্মেন্টসের বাইরে অন্যান্য খাতের ১ হাজার ৫৮২টি।

এর বাইরে বন্ধ হওয়ার তালিকায় ঢাকায় গার্মেন্টস ২৮টি ও অন্যান্য কারখানা ১৯৬টি, কিশোরগঞ্জে ৭০১টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১৯১টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭টি, ময়মনসিংহে ১৬৩টি, সিলেটে ৭১টি, মুন্সিগঞ্জে ৮৩টি, ফরিদপুরে ১৩০টি, খুলনায় ৪২৬টি, যশোরে ২৪৪টি, কুষ্টিয়ায় ৩৪৪টি, দিনাজপুরে ৫৭৮টি, রাজশাহীতে ১ হাজার ২১টি, রংপুরে ৪২টি, বগুড়ায় ৬৪৯টি, সিরাজগঞ্জে ৩৫০টি, পাবনায় ২৬৩টি, বরিশালে ৩০৪টি এবং বাদ বাকি কারখানা দেশের অন্যান্য এলাকায়।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে ৯০টি কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। এর মধ্যে ৭৫টি গার্মেন্টস খাতের এবং ১৫টি অন্যান্য খাতের। অন্যদিকে লে অফ (সাময়িক বন্ধ) হয়েছে ২৮টি কারখানা। এসব কারখানায় সব মিলিয়ে বেকার হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার শ্রমিক। এর মধ্যে গার্মেন্টস কারখানায় কাজ হারিয়েছেন ৫১ হাজারের কিছু বেশি শ্রমিক।

তবে কর্মহীন হওয়ার বিষয়ে ডিআইএফইর এই তালিকার সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের তথ্য মিলছে না। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, আমাদের তথ্যানুযায়ী করোনার ধাক্কায় গার্মেন্টস খাতেই বেকার হয়েছে ১ লাখের বেশি শ্রমিক। এই সময়ে বেকার হওয়া এসব শ্রমিককে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সরকার ও মালিক পক্ষের।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, করোনার আগে থেকেই মূলত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অভিঘাতে শ্রম নির্ভর অনেক কারখানা টিকতে পারছিল না। করোনা এসে তা আরও বেগবান করেছে। এখন বাস্তবতা বিবেচনায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী চাহিদা সম্পন্ন দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে হবে। এছাড়া সরকারের নির্দেশনা সত্ত্বেও ছোট শিল্পোদ্যোগ প্রণোদনার অর্থ পাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.