সাক্ষ্যতে ঝুলে আছে তাবেলা হত্যা মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
পাঁচ বছর আগে রাজধানীর গুলশানে দুর্বৃ্ত্তদের গুলিতে নিহত হন ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার। ওই ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। প্রায় চার বছর আগে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও এখনও তা শেষ হয়নি।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে আলোচিত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, বিভিন্ন সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ বলছে, রাষ্ট্রপক্ষের কারণে এখনও আলোচিত মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষ হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) তাপস কুমার পাল প্রতিদিন২৪.কমকে বলেন, ‘তাভেলা সিজার হত্যা মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ। মামলার প্রতি ধার্য তারিখে আদালতে সাক্ষী উপস্থিত হন। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিভিন্ন কারণে আদালতের কাছে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন। তাদের আবেদনের কারণেই মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হতে সময় লাগছে। আশা করছি, এ বছরই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলছে। কারাগারে থাকা আসামিদের জামিন চাওয়া হলেও আদালত জামিন দিচ্ছে না। রাষ্ট্রপক্ষের উচিত মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা। রায়েই প্রমাণিত হবে আসামিরা দোষী না নির্দোষ।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ প্রসঙ্গে ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ চেয়ে আদালতের কাছে সময়ের আবেদন করি। আদালত না দিলে আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমাদের তো মামলার কাগজ প্রয়োজন। কাগজ ছাড়া আমরা তো সাক্ষীদের জেরা করতে পারি না। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরা আদালতের কাছে সময়ের আবেদন করি।’

বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। মামলার ৭১ সাক্ষীর মধ্যে ৪০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার। ২০১৬ সালের ২২ জুন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সভাপতি এম এ কাইয়ুমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক গোলাম রাব্বানী।

মামলায় সাক্ষী করা হয় ৭১ জনকে। ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। একই বছরের ২৪ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলার আসামিরা হলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সভাপতি এম এ কাইয়ুম, কাইয়ুমের ভাই আব্দুর মতিন, তামজিদ আহম্মেদ, রাসেল চৌধুরী, মিনহাজুল আরেফিন ওরফে ভাগ্নে রাসেল, ভাঙারি সোহেল ও শাখাওয়াত হোসেন।

তাদের মধ্যে কাইয়ুম ও সোহেল পলাতক। কাইয়ুমের ভাই আব্দুল মতিন জামিনে। অপর চার আসামি কারাগারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.