গণপিটুনিতে রেনু হত্যা মামলার আসািমরা জামিনে

 গণপিটুনিতে রেনু হত্যা মামলার আসািমরা জামিনে

গণপিটুনিতে রেনু হত্যা মামলার আসািমরা জামিনে
নিজস্ব প্রতিবেদক
বালিশ কান্ডের কথা নিশ্চয় মনে আছে। সেই দুর্নীতি মামলা দুই আসামি বেড়িয়ে গেছেন। শুনানি হওয়ার পরদিন আদেশ। তারও পরদিন গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়।
রাজধানী উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে তাসলিমা বেগম রেনুকে মারা হয়। সেই ঘটনায় করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জামিন নিয়েছেন অভিযোগপত্রভুক্ত পাঁচ আসামি।

জামিন পাওয়া আসামিরা হলেন, মোহাম্মদ রাজু, রিয়া বেগম ময়না, বাচ্চু মিয়া, মোহাম্মদ শাহীন ও মুরাদ মিয়া।

হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চ থেকে এই আসামিরা পৃথক ভাবে জামিন পেয়েছেন। তবে, আসামিদের জামিন পাওয়ার বিষয় এতদিন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। আসামিরা অনেকটা গোপনেই জামিন নিয়েছেন। মামলার নথি ঘেটে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে আসামি মোহাম্মদ রাজু জামিন পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল এম এম জি সরোয়ার পায়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারা বলেন, ইতিমধ্যেই আসামি মোহাম্মদ রাজুর জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে তাসলিমা বেগম রেনুকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ১৫ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে এ অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশের পরির্দশক আবদুল হক।
১৫ আসামি হলেন- মো. ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লা (২০), রিয়া বেগম ওরফে ময়না বেগম (২৯), মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ওরফে আজাদ মণ্ডল (৫০), মোহাম্মদ কামাল হোসেন (৪০), মোহাম্মদ শাহিন (৩২), মো. বাচ্চু মিয়া (৩৬), মো. বাপ্পী ওরফে শহিদুল ইসলাম (২১), মো. মুরাদ মিয়া (২৬), মো. সোহেল রানা (৩০), আসাদুল ইসলাম (২২), মো. বিল্লাল মোল্লা (৩২), মো. রাজু ওরফে রুম্মান হোসেন (২৩), মো. মহিউদ্দিন (১৮), মো. জাফর হোসেন পাটোয়ারী (১৭), ওয়াসিম ওরফে মো. অসীম আহম্মদ (১৪)। এর মধ্যে আসামি মো. মহিউদ্দিন পলাতক রয়েছেন।

গত বছরের ২০ জুলাই সকালে বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন তাসলিমা বেগম রেনু। তার দুই সন্তানের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে স্কুলের গেটে কয়েকজন নারী তাসলিমার নাম-পরিচয় জানতে চান। পরে লোকজন তাসলিমাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে বাইরে কয়েকশ লোক একত্র হয়ে তাসলিমাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যায়। স্কুলের ফাঁকা জায়গায় এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে। পরে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় তাসলিমার বোনের ছেলে সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা চারশ-পাঁচশ মানুষকে আসামি করে মামলা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.