নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের তারাকান্দার আব্দুর রাজ্জাক ফকির হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। অপরজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।
যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল তারা – মীর জাহান, এমদাদুল হক এনদা ও আনিসুর রহমান। আর বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জিয়ারুল হক এর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

ডেথ রেফারেন্স ও আসামিপক্ষের আপিলের শুনানি শেষে সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও ফজলুল হক খান ফরিদ।
আইনজীবীরা জানান, ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট সড়কের তারাকান্দার মধুপুর বাজার থেকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে নিয়ে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন ভ্যানচালক আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় আব্দুর রাজ্জাকের ভ্যানের গতিরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করেন আসামিরা। পরে তার কাছে থাকা ১৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মরদেহ পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর ওইদিন রাতেই ঘটনাস্থল থেকে আসামি মীর জাহানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। তার দেয়া তথ্যমতে বাকি আসামিদের আটক করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই হজরত আলী ফকির বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় মামলা করেন। এ মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বিচার শেষে ২০১৫ সালের ৪ মে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ চতুর্থ আদালত চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক খান বলেন, শুনানি শেষে হাইকোর্ট মীর জাহান, এমদাদুল হক ওরফে এনদা, আনিসুর রহমানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। আর জিয়ারুল হকের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.