বিশেষ প্রতিনিধি

আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ছিলেন একজন পলাতক আসামি। পুলিশ তাকে খুজে পায়নি।
১০ বছর আগে ২০১০ সালে চেক জালিয়াতির একটি মামলায় সাহেদের ৬ মাস সাজা হয়। সেই সঙ্গে তাকে ৫৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত তঁার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুস সাত্তার প্রতিদিন২৪.কম-কে বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাহেদ করিম। ২০০৮ সালে চেক জালিয়াতির অভিযোগে মজিবর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন।২০১০ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সাহেদকে ৫৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন।
করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর জানা যায়, সাহেদের বিরুদ্ধে ৩২টি মামলা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাহেদ এর প্রতারনা নিয়ে একের পর এক তথ্য প্রকাশ হতে থাকে।রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেনা সদস্য, সচিব,পুলিশ প্রসাশন থেকে শুরু নানা শ্রেণীর লোকের সঙ্গে ছবি প্রকাশ হতে থাকে।সেই সঙ্গে মুর্হুতে প্রকাশ পায় তাঁর নানা কুর্কীতির কথা। প্রশ্ন হলো এতদিন কি কেউ কিছুই জানতেন না ?
গত সোমবার ঢাকার আদালত নতুন করে সাজার পরোয়ানা জারি করেছেন।

ঢাকার মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জাফর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাহেদ একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন চন্দ্র সাহা বলেন, ঢাকার আদালত থেকে দুটি পরোয়ানা পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে।
করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দেওয়াসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ করিমকে আসামি করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ৭ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে র‌্যাব। সেই মামলায় সাহেদকে বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন আট আসামি।

প্রতারণার অভিযোগে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৭ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহাবুবুর রহমান। মামলায় অভিযোগ করেন, একটি জাতীয় পত্রিকায় রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের মালিক সাহেদ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্মারক ব্যবহার করে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তাতে ডিজিটাল হোল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট ও কর আদায় এবং ডিজিটাল নম্বর প্লেট স্থাপন প্রকল্পে সব জেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের কর সংগ্রহের জন্য জনবল নিয়োগের আহ্বান করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি না নিয়ে পত্রিকায় জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা ও ১০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করার জন্য বলা হয়।

সাহেদের বিরুদ্ধে যত মামলা, সাজা কম

ঢাকার সিএমএম আদালতে ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৭টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। মামলাগুলোর অধিকাংশই প্রতারণার অভিযোগে করা।উত্তরা পূর্ব থানায় সাহেদের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা হয়েছে। আর উত্তরা পশ্চিম থানায় ৩টি।বাকীগুলো গুলশান , বাড্ডা থানায়, শাহজাহানপুর, আদাবর এবং লালবাগ থানায় একটি করে মামলা রয়েছ। ২০০৯ সালে সাহেদের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা হয়।
আইন অঙ্গনে রয়েছে সাহেদের প্রভাব।সেই প্রভাব খাটিয়ে মামলার বিচার ঝুলিয়ে রেখেছেন।ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে ৬টি মামলায় খালাস পেয়েছেন।
পুলিশ ও আদালতসুত্রে জানা যায়, সাহেদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারা দেশে ৫২টি মামলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.