করোনা সংক্রমণে রাজধানী ঢাকা যেন একদম ফাঁকা হয়ে গেছে। আর ফাঁকা রাস্তাঘাট অপরাধীদের কাছে যেনো সোনার হরিণ। কিন্তু, সেই তুলনায় ঘটছে না অপরাধ।

দেশের ৬৪০টি থানায় গড়ে প্রতিদিন ৪০০ মামলা রেকর্ড হয়। গতমাসের চিত্রও এমনই ছিল। কিন্তু, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত কমেছে অপরাধের রেকর্ড, মামলা বা জিডির পরিমান।
এছাড়া, বড় কোনো উৎসব যেমন ইদ, পুজার সময় ঢাকা ফাঁকা হলে, অপরাধীরা সুযোগ খোঁজে চুরি বা ছিনতাইয়ের। তাই ফাঁকা বাসা বাড়িতে চুরি ডাকাতি নিয়ে আতঙ্কে থাকেন সবাই। এসময় ফাঁকা রাস্তায় বেড়ে যায় ছিনতাই এর ঘটনাও।

তবে, বড় রাস্তা থেকে অলিগলি, সবখানে সেনাবাহিনী, পুলিশ সদস্যদের টহলে নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তিতে সবাই। বিভিন্ন এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে অপরাধ ঠেকাতে কাজ করছেন জনপ্রতিনিধিরা।

ঢাকা দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ জানিয়েছেন, চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা যাতে না বাড়ে সেদিক খেয়াল রেখে পুলিশ ও জনগণের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, রাতে বিভিন্ন এলাকায় টহল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া দুর্ঘটনা এড়াতে সর্তকতা অবলম্বন করেছেন বলে জানান ঢাকা উত্তর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ফরিদুর রহমান ইরান।

কিন্তু এই পরিস্থিতি ঠিক হবার পর কী হবে! পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সেই সময়টা হতে পারে ভয়াবহ। কারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের জমানো টাকা শেষ হলে পথে নামবেন। কাজ না পেয়ে অনেকে অপরাধে জড়ানোর শঙ্কাও থাকছে। তাই সব পরিস্থিতি বিবেচনা করে, কাজ করছে বাহিনীগুলো।

এসম্পর্কে ডিসি মাসুদুর রহমান বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে অপরাপ শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। কেননা অপরাধীরা যেমন রাস্তায় বের হচ্ছে না তেমনি মানুষজন তেমনি ঘরে অবস্থান করছে, এতে অপরাধ কমে এসেছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ চেক পোস্ট রয়েছে।
সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

তবে, অপরাধ দমনের চেয়ে এই মূহুর্তে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর মূখ্য উদ্দেশ্য করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.