নিউজ ডেস্ক : ইরানের বিপ্লবী গার্ডস কমান্ডার আমিরআলী হাজিজাদেহ বলেছেন, যোগাযোগের বিপত্তি ঘটায় ক্ষেপণাস্ত্র অপারেটর ভেবেছিলেন, ধেয়ে আসা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে তার হাতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় আছে। যে কারণে তিনি ওই ইউক্রেনীয় যাত্রীবাহী বিমানটি গুলি করেছেন।-খবর মেইল অনলাইনের

ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি (পিএস-৭৫২) কিয়েভে যাওয়ার উদ্দেশে মঙ্গলবার গভীর রাতে তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। এর কিছুক্ষণ পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বিমানটি ভূপাতিত হয়। ৩ জানুয়ারি বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলেমানিকে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

হাজিজাদেহ বলেন, একজন ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনাকারী স্বাধীনভাবে একা সব কাজ করেছেন। বিমানটিকে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভেবে তিনি ভুল করে ফেলেন।

ইরানকে লক্ষ্য করে এ জাতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে এমন খবর পাওয়ার পর ঘটনাটি ঘটে। তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনাকারীর হাতে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় ছিল। তিনি আঘাত করা বা না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। কিন্তু এ রকম পরিস্থিতিতে তিনি ভুল সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। যদিও তিনি যোগাযোগ করতে এবং যাচাই করতে বাধ্য ছিলেন। তবে স্পষ্টতই তার যোগাযোগ ব্যবস্থায় কিছু বিঘ্ন ঘটেছিল।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের এই অ্যারোস্পেস কমান্ডার আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল রোধে সামরিক বাহিনী তার ব্যবস্থাগুলো আরও উন্নত করবে। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানার পর তার মনে হয়েছিল এর চেয়ে তিনি যদি মারা যেতেন!

বিমানের ১৭৬ জন আরোহীর মধ্যে অধিকাংশ ছিলেন ইরান ও কানাডার নাগরিক। এছাড়া ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান ও জার্মানি নাগরিকরাও ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.