নিউজ ডেস্ক : নাট্যকার ও নির্মাতা আব্দুল্লাহিল কাফীর ‘অভিনয় শৈলী’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মহিলা সমিতি মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসির উদ্দিন সাথী।

তিনি বলেন, ‘অভিনয় শৈলী’ নাম শুনলেই বোঝা যায় বইটি অভিনয়কে কেন্দ্র করে লেখা। আমি অভিনয় সম্পর্কে এতো কিছু না বুঝলেও এটুকু বুঝি অভিনয় করতে গেলে মঞ্চ প্রয়োজন, আর মঞ্চের জন্য কিছু পড়াশোনার প্রয়োজন। নাটকের যেসব প্রাথমিক ধাপ, তার সবগুলোই এই বইতে তুলে ধরা হয়েছে। আমি কাফীর বইয়ের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি’।

বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক বলেন, নাটক করতে হলে মঞ্চের বিকল্প নেই, কারণ মঞ্চ থেকেই উঠে আসে সত্যিকারের অভিনেতা। কাফীর নাটকের বইটি আমি পড়েছি অসাধারণ লেখনি, বিশেষ করে যারা নাটক করতে চায়, শিখতে চায় তারা উপকৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

পিদিম প্রকাশনীর কর্ণধার আব্দুল আলীম বলেন, বইটি বের করতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি। কারণ অভিনয়ের জন্য বইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সারা দেশের নাট্যকর্মীদের কাছে বইটি ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করব।

বইটি লেখার অনুভূতি প্রকাশ করে লেখক আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, আমি একজন সাধারণ নাট্যকর্মী, নাট্যবোদ্ধা বা পণ্ডিত নই। তারপরও নাট্য বিষয়ক গ্রন্থ রচনার সাহস দেখানো ধৃষ্টতারই শামিল। আমার এই ‘অভিনয় শৈলী’ বইটি মূলত নবীন নাট্যকর্মীদের জন্য যারা নাটকের অ আ ক খ শুরু করেছেন কিংবা যারা থিয়েটার নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান।

তিনি বলেন, একজন নাট্যকর্মী সবসময় ভাঙতে ও গড়তে ভালোবাসেন। ভাঙা-গড়াই তার আনন্দ। নিশ্চয় এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, আমার এই বই পড়ে রাতারাতি কেউ দক্ষ অভিনেতা হয়ে যাবেন। এটা কখনোই সম্ভব নয়। কারণ, শুধু বই পড়ে অভিনয় শেখা যায় না। সত্যিকারের অভিনেতা হতে হলে অভিনয় শুরুর পাশাপাশি করতে হবে নিয়মতান্ত্রিক অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রম।

‘অভিনয় শৈলী’বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে নাট্যচার্য সেলিম আল দীন এর ‘সঙবাদ কার্টুন’নাটক মঞ্চায়ন করে বাংলাদেশ থিয়েটার প্রাঙ্গণ। নাটকটি নির্দেশনা দেন তারেক তাশহাদ।

প্রসঙ্গত, নাট্যকার আব্দুল্লাহিল কাফী ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব, কৈশোর ও যৌবন কেটেছে রাজশাহী শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা দনীর পাড়ঘেঁষা খোঁজাপুর মহল্লায়। ১৯৯৩ সালে মাধ্যমিকে পড়ার সময় স্কুলের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নাটক অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চনাটকের সাথে যাত্রা শুরু। দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যমঞ্চ’র সাথে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্দেশনা দিয়েছেন ২০টিরও অধিক নাটক। রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি নাটক।

অভিনেতা হিসেবেও সফলতার সাক্ষর রেখেছেন আব্দুল্লাহিল কাফী। ছোট বড় অনেক নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণ করেছেন অসংখ্য নাটক-টেলিফিল্ম। এছাড়া টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও রিয়েলিটি শো নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সিনিয়র প্রডিউসার হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০০৭ সালে জাতীয় নাট্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ২০০৫ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি নাট্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ নির্দেশক নির্বাচিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.