প্রতিদিন ডেস্ক : সম্প্রতি সময়গুলোতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে স্তন ও জরায়ু সংক্রান্ত নারী রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বাড়ছে গর্ভবতী মায়েদের সিজার করার প্রবণতা। এমন সব বিষয়সহ স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে বাংলাদেশি চিকিত্সক ও বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সফর করা সিঙ্গাপুরের অন্যতম আধুনিক হেলথকেয়ার সেবা প্রদানকারী হাসপাতাল ফেরার পার্ক হসপিটালের অবসটেটরিক অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ডি প্যাং। এ বিষয়ে তার রয়েছে ১০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা। স্ত্রীরোগ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সাক্ষাত্কার অবলম্বনে লিখাটি আজকের আয়োজন-

বাং লাদেশের প্রায় ৫০% নারী গর্ভকালীন ইউটেরিন ফাইব্রয়েডস-এ আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এই রোগের প্রধান চিকিত্সা সাধারণত সার্জারির মাধ্যমেই হয়ে থাকে। এই রোগের চিকিত্সায় ডা. প্যাং হাসপাতালে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন, যার মাধ্যমে আল্ট্রাসাউন্ড করানোর সময় তাপ ব্যবহার করে টিউমারগুলো ধ্বংস করে দেওয়া যায়। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চিকিত্সা পদ্ধতি খুবই সহজ হয়ে যায়।

ডা. প্যাং একজন স্ত্রীরোগ ও ওমেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনি নারীদের জরায়ু ও স্তন টিউমার আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সা সেবা দেন। নারীদের জরায়ু স্তন যদি ১০ সে.মি এর বেশি বৃদ্ধি পায় তখন তারা সাধারণত এ ধরনের বিষয়ে সমস্যা নিয়ে আসেন। এছাড়াও তারা মুত্রাশয়ের সংকোচনজনিত সমস্যা নিয়ে আসত কারণ এ সময় তাদের প্রস্রাবে সমস্যা হতো। গর্ভাবস্থায় এ ধরনের সমস্যা হলে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়াও গর্ভবতী ও গর্ভে থাকা শিশুর জন্য প্রতিটি মুহূর্ত সতর্ক থাকতে হবে।

সিজার করার প্রবণতার বিষয়ে তিনি বলেন, নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে অনেক সময় অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। প্রতি ৫ জনে একজন গর্ভবতী মা নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা করেন কিন্তু গর্ভে থাকা বাচ্চার হার্টবিটসহ অন্যান্য সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত সিজার করেন। সেজন্য জরুরি সিজারের চেয়ে পরিকল্পিত সিজার অনেক নিরাপদ। কারণ অনেক সময় জরুরি সিজার সহজেই করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে মা ও শিশুর জন্য পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে, এটি নিশ্চিতভাবেই ঠিক যে, নরমাল ডেলিভারি মা ও শিশুর জন্য অনেক নিরাপদ ও প্রাকৃতিক একটি পদ্ধতি। সিজারের ফলে পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিতে পারে এবং মা পরবর্তীতে কোনো ভারী ও কঠিন কাজ করতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি যে, যেসব নারী দেরিতে গর্ভধারণ করেন তাদের ক্ষেত্রে সিজার করার হার বেশি হয়। এক্ষেত্রে কিছু মেডিক্যাল কারণও রয়েছে। সাধারণত দেরিতে গর্ভধারণ করা মায়েরা নরমাল ডেলিভারির চেয়ে  সিজার করার দিকেই বেশি চেষ্টা করেন। হয়ত    তাদের আর কোনো সন্তানও নেই। ফলে, সিজারের পরবর্তী ঝুঁকিগুলো নিয়ে তারা খুব একটা দুশ্চিন্তা   করেন না।

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ে তার মত, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রতি ৩ জনে ২ জনেরই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমরা সাধারণত ২৮ সপ্তাহের পর গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নির্ণয় করে থাকি। তবে, এটি বিপজ্জনক হতে পারে যদি গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস চিহ্নিত না করা যায়। অনিয়ন্ত্রিত সুগার মাত্রা গর্ভে থাকা শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

চিকিত্সা বিজ্ঞানে আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে ডা. প্যাং বলেন, এইচআইএফইউ হচ্ছে হাই ইনটেসিভিটি ফোকাস আল্ট্রাসাউন্ড। এই পদ্ধতিতে আল্ট্রাসাউন্ড থেকে তাপ দিয়ে টিউমার সেলগুলোকে হত্যা করা হয়। এই পদ্ধতিটি তাদের জন্যই ব্যবহার করা হয় যারা জরায়ুতে টিউমার সমাধানে নন ইনটেনসিভ পদ্ধতির খোঁজ করেন। এটি স্বল্প সময়ের এবং তুলনামূলক কম। এই পদ্ধতিটি নারীদের গর্ভধারণ ক্ষমতাকেও সংরক্ষণ করে এবং যারা সার্জারির জন্য প্রস্তুত নয় তাদের জন্যও এই পদ্ধতিটি বেশ উপযোগী। সম্প্রতি বছরগুলোতে স্ত্রী রোগের সার্জারি বেশ উন্নত হয়েছে। বর্তমানে আমি অন্তত অর্ধেক সার্জারি করি ল্যাপারোস্কপি দিয়ে। এর ফলে রোগীরা তুলনামূলক কম জটিলতায় দ্রুত সেরে উঠেছে। তবে, এক্ষেত্রে হাসপাতালের পরিবেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.