<strong>স্টাফ রিপোর্টার :</strong> জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের বলেছেন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের বিষয়টি চুড়ান্ত করা ঠিক হবে না। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের আগে সকল দলের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ।

রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) আগামী জাতীয় নির্বাচন ও মহাজোটের শরিক দলগুলোকে ৭০টি আসন দেওয়ার বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে কারচুপি হয়ে থাকে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণে কারচুপি হলেও, তা বন্ধ করার পদ্ধতি রয়েছে। তারপরও প্রশ্ন থাকে জনগণের সচেতনতার বিষয়টি।

এ সময় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও যুক্তফ্রন্টের বিভিন্ন দাবিতে মাঠে নেমে আন্দোলনের ঘোষণার বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, বিএনপিসহ আন্দোলনরত দলগুলো জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। আর এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যে, দেশে অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় বসবে। সরকার সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়েই নির্বাচন পরিচালনা করবে বলেই আমার বিশ্বাস।

নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনাররা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করেন না। নির্বাচন পরিচালনা করে মাঠ প্রশাসন। ডিসি এসপিসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারিরা নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। এক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভুমিকায় রাখার জন্য সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারিরা নিরপেক্ষ ভুমিকা নিলেই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব। আর নির্বাচন কমিশন তাদের মনিটরিং কার্যক্রম সঠিকভাবে পালন করে কঠোর পদক্ষেপ বা ভুমিকা পালন এবং প্রভাবমুক্ত থাকলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়। আমি আশাকরি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বড় কর্তাদের দিয়ে এসব কার্যক্রম করা সম্ভব।

বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয় নিয়ে জিএম কাদের বলেন, বিএনপির মধ্যে একটি অংশ চাচ্ছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। অপর একটি অংশ এর বিরোধীতা করছে। আমি মনে করি দলটির নীতিনির্ধারকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। তারপরও তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তা হলে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবেনা যে, দেশে অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আসবে।

মহাজোটের শরিকদের ৭০টি আসন দেওয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আপনারা কতটি আসন পাচ্ছেন? জবাবে জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয় দলের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যহত রেখেছেন। তবে আমরা ৭০টির বেশী আসন চাইবো।

আপনারা বলেছেন এককভাবে নির্বাচন করবেন। আপনারা একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত থেকে তা হলে দুরে সরে যাচ্ছেন? জবাবে জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি একক এবং জোটগতভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে সব কিছু। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জাতীয় পার্টি জোটগত ভাবে নির্বাচন করবে। অন্যথায় এককভাবে নির্বাচন করা হবে। ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেয়ার মত প্রার্থী জাতীয় পার্টিতে রয়েছে। তবে সব আসনে যোগ্য প্রার্থীর অভাব রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.