আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ : আরামদায়ক ও ব্যয় সাশ্রয়ী আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ভালুকা-গফরগাঁও-হোসেনপুর সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানোর পর এরই মধ্যে প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ সমাপ্ত করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে কমিশন। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যাতায়াতের খরচ কমবে এবং ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কুমার চৌধুরী পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত সড়কটি যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণের মাধ্যমে নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে এবং প্রকল্প এলাকার জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনযোগ্য।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভালুকা-গফরগাঁও সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ২১ কিলোমিটার। সড়কটির ১৯ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন কাজ এবং গফরগাঁও থেকে খুরশিদমহল ব্রিজ অ্যাপ্রোচ পর্যন্ত ১২ দশমিক ১০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ কাজসহ মোট ৩১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ রোড নেটওর্য়াক ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভূমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রকল্পটির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সময় বৃদ্ধির অনীহার কারণে প্রকল্পটির ভালুকা থেকে খুরশীদ মহল অ্যাপ্রোচ পর্যন্ত ৩১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এই সড়কের অ্যালাইনমেন্ট বরাবর কিশোরগঞ্জ থেকে হোসেনপুর অংশে দুইটি সেতু এবং গফরগাঁও থেকে ভালুকা অংশে তিনটি সেতুর কাজ শেষ করা হয়।

এছাড়া ১২ দশমিক ১০ কিলোমিটার নতুন প্রস্তাবিত রাস্তার ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করা হয়। ভালুকা থেকে হোসেনপুর পর্যন্ত ৩১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার সড়কটি ৫ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থে উন্নীতকরণের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ২২৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবাযনের জন্য প্রস্তাব করা হয়।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর গত ২৫ মার্চ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্তে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। পুনর্গঠিত ডিপিপির প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়ায় ২১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- ১৪ দশমিক ৯৭ লাখ ঘন মিটার সড়কবাঁধে মাটির কাজ, ৭ দশমিক শূন্য ৫ কিলোমিটার (৫ দশমিক ৫ মিটার) পেভমেন্ট মজবুতিকরণ, ১২ কিলোমিটার পেভমেন্ট (৩ দশমিক ৭ মিটার) মজবুতিকরণ, ১২ কিলোমিটার পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ, ১৯ কিলোমিটার হার্ডশোল্ডার নির্মাণ, ১২ দশমিক ১০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ, ৩১ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সার্ফেসিং ও হার্ডশোল্ডারের ডিবিএস বেইজ কোর্সসহ ডিবিএস ওয়েরিং কোর্স, ১৮২ মিটার আরসিসি কালভার্ট নির্মাণ, চারটি ইন্টারসেকশন উন্নয়ন, তিন হাজার মিটার টো-ওয়াল, একশটি সাইন পোস্ট, তিন হাজার কিলোমিটার পোস্ট, ৩৩টি গাইড পোস্ট এবং নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.