নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ আসলে রাজধানীর কর্মব্যস্ত মানুষের শিকড়ে টান পরে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ছোটেন গ্রামের বাড়িতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়া এ সব মানুষের জন্য চাই অগ্রিম টিকেট। আর ঈদের টিকিট মানে ‘সোনার হরিণ’।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দুরপাল্লার বাস মালিকরা অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। প্রতিবারের মতো এবারও যুদ্ধ জয় করে টিকেট পেতে হচ্ছে ঈদে ঘরে ফিরতে ইচ্ছুক মানুষদের।

মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল গাবতলীতে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটপ্রত্যাশীরা বাসের কাউন্টারগুলোর সামনে ভিড় করতে শুরু করে। এর মধ্যে কেউ কেউ টিকিট পেয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরছে, আবার অনেকেই কাউন্টারগুলোতে ঘুরে শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

যাত্রীরা জানায়, এবার নামকরা জনপ্রিয় পরিবহনগুলো ঈদের টিকিট অনলাইনে বেশি ছেড়েছে। এজন্য কাউন্টারগুলো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।

বুলেট নামে দিনাজপুরের টিকিট প্রত্যাশী এক যাত্রী বলেন,  সকাল থেকে নাবিল পরিবহনের টিকিটের জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছি কিন্তু ১০ টা বাজল টিকিট পেলাম না। কাউন্টার থেকে বলে দেওয়া হয়েছে টিকিট অনলাইনে পাবেন। অনলাইনে ঢুকছি কিন্তু টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।

গাবতলী বালুর মঠ হানিফ কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেল। হানিফের টিকিট পেয়ে অনেককেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। আবার টিকিট না পেয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।

সকাল ছয়টা থেকে দাঁড়িয়ে কাঙ্খিত তিনটা টিকিট পেয়েছেন রিপন। রিপন জানান, একদম সকালে এসে দাঁড়িয়েছি। টিকিট পেলাম। খুব ভালো লাগছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/07/1533617546964.jpg

অপর দিকে একই সময়ে এসে লাইনে পিছিয়ে পরার কারণে টিকেট পায়নি মশিউর রহমান।

মশিউর বলেন, আরে একটু দেরী হয়েছে আসতে । এর মধ্যে নয়টার মধ্যে টিকিট শেষ। কিভাবে মানা যায়। এখন দেখি কি করা যায়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই যাত্রী বলেন, এরা টিকিট জিম্মি করে রাখে। যাতে পরে  বেশি দাম পায়। সকাল সাড়ে সাতটায় এসেছি। কয়েকটা টিকিট বিতরণ করে বলে টিকিট শেষ। কয়েকদিন পরে  এদের কর্মচারিরা দেখবেন, এই টিকিট ডাবল দামে বিক্রি করছে।

নাবিল পরিবহনের ম্যানেজার সুইট  বলেন, রাজধানীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লাখ লাখ মানুষ থাকে। অধিকাংশই ঈদ করতে বাড়ি যায়। টিকেট বিতরণ চলছে। তবে অনেক জেলার শেষ হয়ে গেছে। আসলো স্বল্প টিকেট থাকায় সবাইকে দেওয়া কষ্টকর। আর এবার আমাদের টিকিট বেশির ভাগ অনলাইনে দেওয়া হয়েছে। যাতে মানুষ ভোগান্তি না পড়ে, নিরিবিলি বাসায় বসে বাসের টিকিট কাটতে পারে।

গত রোববার (৫ আগস্ট)  থেকে টিকিট বিক্রি করার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে টিকিট বিক্রি পেছানো হয়। নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে পরিবহন চলাচলের পাশাপাশি আজ থেকে ঈদের টিকিট বিক্রি শুরু করে বাস মালিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.