ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চার শিক্ষার্থীকে মারধরের পর থানায় সোপর্দ করা তিন শিক্ষার্থী এবং সোমবার (৬ আগস্ট) শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের হাতে আটক আরও দুই শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার ঢাবি প্রক্টর অফিস ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। এরপরই তারা শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন।

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সোমবার দিবাগত রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলের গেস্ট রুমে চার শিক্ষার্থীকে রাতভর মারধর করা হয়। পরে ভোরে প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে তিন শিক্ষার্থীকে থানায় সোপর্দ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চার শিক্ষার্থীকে থানায় সোপর্দের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই চার শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের উপগ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান সুফি, হল শখার তিন সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাইম, আশিক আল ফাহাত ও প্রবাল রৌশনী, দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাহমুদ নির্জন ও মশিউর রহমান, সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক শামিম হোসেইন ও মাহমুদুল হক আরিফের বিরুদ্ধে।

পরে মারধরের শিকার চার শিক্ষার্থী হলেন— পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের জোবায়দুল হক রনি, গণিত বিভাগের তারিকুল, প্রাণ রসায়ন বিভাগের মোজাম্মেল ও ওমর ফারুক। এর মধ্যে তারিকুল, জোবায়দুল হক রনি ও ওমর ফারুককে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার সিদ্দীক সিসিম বলেন, ওইভাবে মারা হয়নি কাউকে, একটু চার্জ করা হয়েছে। ফোনে তাদের গুজবের কিছু ছবি ও তথ্য ছিল।

এর আগে, সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগে যাওয়ার সময় পুলিশ বাধা দিলে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.