নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৫৭ শিক্ষার্থীকে আটক ২৪ ঘণ্টা পর অবিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, গতকাল সোমবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আহসান উল্লাহ ইউনিভার্সিটি ও সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির একদল শিক্ষার্থী বাড্ডা আফতাব নগরে পুলিশের সঙ্গে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের খবর পেয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন। পুলিশ টের পেয়ে তাদের বাধা দিলে হাতিরঝিল এলাকায় সড়কে পুলিশের ওপর তারা চড়াও হয়। ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে সেখান থেকে ৫৭ জনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৫ জন নারী শিক্ষার্থীও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আটকরা ব্যক্তিরা সকলেই শিক্ষার্থী হওয়ায় এবং ভবিষ্যত জীবন নষ্ট হবে ভেবে তাদের অবিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। অবিভাবকরা এসে মুচলেকা দিয়ে তাদের সন্তানদের নিয়ে যান। এরপর এ ধরণের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে দেখলে অবিভাবকদের না জানিয়েই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুচলেকা দেওয়া অবিভাবক সিরাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ছেলেকে থানায় ২৪ ঘণ্টা আটক রাখার পর অঙ্গীকার নামা দিয়ে ছাড়িড়ে নিলাম। মুচলেকায় কী লেখা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ধরণের অপরাধে ৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে এরকম কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে অবিভাবকরা আর তদবির করতে থানায় আসবেন না বলে লিখে নিয়েছেন।

প্রদ্দুৎ কুমার নামে শিল্পাঞ্চল থানার এসআই বলেন, ৫৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ জনই আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের। ৫৬ জনের মধ্যে ৫ জন নারী। বাকী একজন সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

খালেদুজ্জামান নামে এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের যখন আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয় তখন নারী পুলিশ কেউ ছিলেন না। পুরুষ পুলিশ দিয়েই টেনে থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দেয়নি।

ছাড়া পেয়ে সাদিয়া আফরিন দোলা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, রাতে খেতে দেয়নি। মশার কামড়ে অনেক কষ্ট হয়েছে। কোন দোষ করিনি তারপরেও ধরে নিয়ে আটকে রেখেছিল।

ছাড়া পেয়ে এক শিক্ষার্থী খোড়াতে খোড়াতে থানা থেকে বের হচ্ছিলেন। জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, থানায় এনে গালিগালাজ করলেও শারীরিক কোনো নির্যাতন করেননি কেউ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.