ডেস্ক রিপোর্ট : অন্যদিনের মতো স্বাভাবিকভাবেই তিনি নামাজ শুরু করেন। প্রথম রাকাত শেষও করেন। বিপত্তি দেখা দেয় দ্বিতীয় রাকাতের সময়। ওই সময় তীব্র ভূমিকম্প শুরু হয়। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে নিজেকে রক্ষা করতে না পেরে অনেক মুসল্লি নামাজ ছেড়ে চলেও যান। কিন্তু তিনি ইমাম, তিনি নামাজ নামাজ ছাড়েননি। নামাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। যদিও ইসলামি বিধানমতে তার নামাজ ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি ছিল।

এমনই একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ব্রিটেনভিত্তিক জনপ্রিয় ইসলামি ওয়েবসাইট ‘ইলমফিড.কম’। তবে ভিডিওটি ইন্দোনেশিয়ার কোন মসজিদের আর ইমাম সাহেবের নাম পরিচয় কিছুই প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশিত ১৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাজানো-গোছানো একটি মসজিদে ইমাম সাহেব নামাজ পড়াচ্ছেন স্বাভাবিকভাবে। নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পড়ার শেষ দিকে হঠাৎ করে ভূমিকম্পন শুরু হয়। ভূমিকম্পের তীব্রতায় ইমাম সাহেবের পেছন থেকে কয়েকজন মুসল্লি নামাজ ছেড়ে দৌঁড়ে চলেও যান। কিন্তু ইমাম সাহেব অনড়, তিনি নামাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। ভূমিকম্পের মাত্রা বাড়তে থাকলে তিনি নিজেকে রক্ষায়, পাশের দেয়ালে হাত রেখে নিজেকে সামাল দেন, তার পরও তিনি তিনি নামাজ ছাড়েননি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/06/1533537965943.jpg

ভূমিকম্পের সময় তিনি তেলাওয়াত করেন সূরা বাকার ২৫৫ নম্বর আয়াত। ওই আয়াতটি আয়াতুল কুরসি নামে প্রসিদ্ধ। তেলাওয়াতকৃত আয়াতে অর্থ হলো- ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তার। কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তার কাছে তার অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তার জ্ঞানসীমা থেকে তার কোনো কিছুই পরিবেষ্টন করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তার সিংহাসন পরিবেষ্টন করে আছে সমগ্র আসমানও জমিন। আর সেগুলোকে ধারণ করা তার পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।’

এই আয়াতটি তেলাওয়াত করার সময় ইমাম সাহেব আয়াতের প্রথমাংশ ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম’ (আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক) কান্নাবিজড়িত কন্ঠে পাঁচ-পাঁচবার তেলাওয়াত করেন। এরই মাঝে ভূমিকম্পের তীব্রতা কমে আসতে থাকে। নামাজ ছেড়ে যাওয়া মুসল্লিরাও চলে আসেন।

আয়াতুল কুরসি মুসলমানদের মাঝে ব্যাপকভাবে পঠিত একটি আয়াত। এতে সমগ্র মহাবিশ্বের ওপর আল্লাহর জোরালো ক্ষমতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এ আয়াত পাঠে অসংখ্য সুফল পাওয়া যায়।

ওয়েসবাইট ইলমফিড.কম ভিডিওটি শেয়ার করার পর তা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। অনেক মন্তব্যকারী এটিকে ঈমানের পরীক্ষা বলে আখ্যায়িত করেছেন। অনেকে ইমাম সাহবেরে মনোবলের প্রশংসা করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কেউ বলেছেন, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত এটা। এমন প্রশ্নাতীত বিশ্বাসের জন্য আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত করুন।

উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপে রোববার (৫ আগস্ট) রাতের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ৯০ জনের প্রাণহানী হয়েছে। এছাড়া কয়েকশ’ মানুষ আহত হয়েছেন। রিখটার স্কেলের ৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পে হাজার হাজার ভবন ভেঙে পড়েছে এবং বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ যোগাযোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.