নিজস্ব প্রতিবেদক : কয়েকদিন ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলামান আন্দোলনের মুখে পরিবহন সেক্টরের ‘অঘোষিত’ধর্মঘট পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের নেতৃত্বের কাছে জিন্মি জনজীবন।

বর্তমানে সারাদেশের মানুষের মধ্যে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে,সেটার জন্য দীর্ঘ কয়েক যুগে পরিবহন সেক্টরের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন ১৪ দলীয় জোট। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের নজর না থাকায় পরিবহন সেক্টরের কাছে জিম্মায় জনজীবন বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার (৩ আগস্ট) আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশ্ববর্তী নির্বাচনী অফিসে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সভা হয়। সভায় এমন উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় ১৪ দলীয় জোট নেতাদের।

কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘অত্যন্ত দুংখের বিষয়, আমাদের স্বীকারর করতে হবে। আমাদের স্বীকার করতে লজ্জ নাই। আমাদের সরকারের আমলে কিছু অব্যবস্থাপনার কারণে এই পরিবহন সেক্টরে যারা কাজ করে, যারা শ্রমিকদের নেতৃত্ব দেয়। তারা কিন্তু দল মত নির্বিশেষে একই স্বার্থে কাজ করে।’

তিনি বলেন, ‘বাম বলেন, ডান বলেন, এই শ্রমিক পরিবহনের নেতৃত্বে যারা আছে তাদের সরকারি দল, বিরোধী দল বলে কিছু নেই। তারা দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরকে এমন একটু জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে মানুষ জিম্মি হয়ে গেছে।’

পরিবহন সেক্টরের মানুষের  জিম্মি দশা থেকে পরিত্রাণ বিষয়ে ১৪ দলীয় জোটের সভায় আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি।

মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, ‘এখান থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে। এই ব্যাপারটি অনেক আলোচিত হয়েছে। এখানে কিন্তু বাম-ডান কিছুই নাই। সবাই এক স্বার্থে এক হয়ে গেছে।’

এখন একটা সময় এসেছে, এখনই এখান থোকে পরিত্রাণ পেতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবহন সেক্টরের আইনটি আগামী কেবিনেট মিটিং পাশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, আগামী কেবিনেট মিটিংয়ে পরিবহন সেক্টরের আইনটি পাস করা হবে ‘

নৌ পরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগ করবেন কি না সাংবাদিক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি(নৌমন্ত্রী) দুংখ প্রকাশ করেছেন। ক্ষমা চেয়েছেন। সে যথেষ্ট লজ্জিত এবং অপমানিত হয়েছে? আর কত?’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরিয়ে যাওয়া আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের দাবি মেনে নিয়েছে; বিশ্বাস করি, ছেলেমেয়েরা দ্রুত ঘরে ফিরে যাবে।…কারণ লক্ষ অর্জনের পরও যদি তারা বাইরে থাকে; তাহলে লক্ষ্য অর্জন নয় লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়ে যাবে।’

সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কোন কথা বলবেন না, এমন কোন উক্তি করবেন না, এমন কোন আচরণ করবেন না, যার জন্য এই আন্দোলনটি লক্ষ্য অর্জন না করে অন্য পথে চলে যায়।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, জাসদ একাংশের শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক, কামরুল আহসান খান, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ওয়াজেদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, বাসদের রেজাউর রশিদ খান, গণ আজাদী লীগের এস কে শিকদার, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়, বিএমএ মহাসচিব মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.