ঢাকা: আগামী রোববার থেকে দাবি আদায়ের কাজ শুরু না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ার‌ম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

শুক্রবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনসহ একাধিক সংগঠন আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ ঘোষণা দেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পায়েল, রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীসহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ঘটনার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন করা হয়।

দেশের মানুষকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সাময়িক অসুবিধা হলেও আপনারা অস্থির হবেন না। ভালো কিছু পাওয়ার জন্য অনেক সময় কিছু কষ্ট স্বীকার করতে হয়।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘রোববার থেকে দাবি মেনে নিয়ে সরকার কাজে হাত দিলে তোমরা অবশ্যই ঘরে ফিরে যাবে। বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাবে।’

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বহীন বক্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান ইলিয়াস কাঞ্চন।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক দূর্ঘটনায় আমার সন্তানের মাকে হারিয়ে ২৫ বছর আগে আমি এ আন্দোলন শুরু করেছিলাম। এর একটাই উদ্দেশ্য ছিল আমার সন্তানের মত আর কোন সন্তান তার মাকে না হারায়। কোন মায়ের সন্তানের রক্ত যাতে সড়কে না ঝড়ে।

এ আন্দোলন করতে গিয়ে আমাকে অনেক ধরনের নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। মানসিকভাবে আমাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমাকে দমানো যায়নি।

তিনি বলেন, আজকে ২৫ বছর পর হলেও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ দাবি নিয়ে সড়কে নেমে এসেছে। আমি শুরু থেকেই তাদের সঙ্গে সঙ্গহতি জানিয়ে এসেছি। তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে আমি সমর্থন করে এসেছি। আমি তাদের সঙ্গে আছি।

সরকার ও পরিবহন সেক্টরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্বহীন কথা বার্তায় পরিহন সেক্টর আজ বিশৃংখল ও অমানবিক হয়েছে উঠেছে। তার প্রতিবাদে আজকের এ মানববন্ধন।

আজকে আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই- নিরাপদ সড়ক মানুষের প্রাণের দাবি, এদেশের মানুষ সড়কে মরতে চায়না, পঙ্গু হতে চায় না। সে কারণে আর সময় নষ্ট করা উচিত নয়, যতই সময় যাবে ততই জীবন যাবে। দাবি মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন শুরু করুন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী একজন চালক প্রতিদিন ৫ ঘন্টা গাড়ি চালাবেন । কিন্তু এটা বাস্তবায়ন করতে হলে এক একটা গাড়িতে কম করে হলেও দুইজন করে চালকের প্রয়োজন। সে হিসেবে দেশে এখন ২০ লাখ চালকের দরকার রয়েছে। কিন্তু এ বিপুল সংখ্যক চালক তৈরিতে কোন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়নি। এমনকি জাতীয় বাজেটেও এর জন্য কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি।

কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে নিরাপদ সড়ক গড়তে আইন তৈরিতে সরকারকে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে পরিবহন সেক্টরের ভয়ে আপনারা নতুন আইন প্রণয়ন করতে পারেন না। আজকে সেই সুযোগটি শিক্ষার্থীরা করে দিয়েছেন। এখন সারাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আছে। এ অবস্থায় নতুন আইন তৈরি করা ও প্রয়োগ করা কোন কষ্টের বিষয় হবে না। এখনই কাজটি শুরু করা উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

সড়কের জন্য তৈরি নতুন খসড়া আইনের সমালোচনা করে চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, নতুন এ আইনে নিরাপদ সড়ক গড়তে আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই সংযুক্ত করা হয়নি। কতটুকু নেওয়া হয়েছে তা আমাদের জানানো হয়নি। নতুন এ আইনের নাম দেওয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন আইন। এতে শুভংকরের ফাকিঁ রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, আমরা বলেছি, শুধু সড়ক পরিবহন কথাটুকু নয়। এখানে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন আইন হতে হবে। নিরাপত্তা শব্দটি যুক্ত করতে হবে।

এছাড়া নতুন আইনের খসড়ায় তিন বছর সাজার মেয়াদ রেখে উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বেশ কয়েকটি সংগঠন মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, সেইফ দ্যা রোড, সন্দ্বীপ সমিতি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিকজোট।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.