ডেস্ক প্রতিবেদন : নতুন নগর পিতা বেছে নিতে ভোটের জন্য প্রস্তুত রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটে সিটি করপোরেশন। উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন তিন সিটির ভোটাররা। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন উপলক্ষে তিন নরগরীতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা। নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা থাকবেন। এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে প্রায় পাঁচশ’ পর্যবেক্ষক ও ছয় শতাধিক সাংবাদিক থাকবেন।

এরআগে শনিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে রাজশাহী,বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। এই তিন সিটিতে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে সোমবার (২৯ জুলাই) প্রায় ৮ লাখ ৭৪ হাজার ভোটার ভোট দেবেন। এ দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে।

ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, তিন সিটি নির্বাচনের জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি শেষ করেছি। নির্বাচনে যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়, সে বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা রয়েছে।আইশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। আশা করছি আমরা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারব।

এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য ইসি একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) উইংয়ের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কমিটিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। রাজশাহী সিটিতে সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বরিশালে মুজিবুর রহমান ও সিলেটে মো. আলিমুজ্জামন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

তিন সিটির ১৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রাজশাহী ও সিলেটের দুটি কেন্দ্রে ও বরিশালের ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন
নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহীতে ১৫ প্লাটুন, বরিশালে ১৫ প্লাটুন এবং সিলেটে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন ২২ জন পুলিশ ও ভিডিপি সদস্য। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া ৮৭ প্লাটুন র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী ও বরিশালে ৩০ প্লাটুন এবং সিলেটে ২৭ প্লাটুন।

মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যরা ভোটের দুই দিন আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দিনসহ মোট চার দিন মাঠে থাকছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে র‌্যাব, পুলিশ ও কয়েক প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে। এ ছাড়াও গত ১০ জুলাই থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

তিন সিটির ভোটকেন্দ্র
রাজশাহী সিটিতে ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ১৩৮টি ভোট কেন্দ্র ও এক হাজার ২৬টি ভোটকক্ষ রয়েছে। বরিশাল সিটিতে ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ১২৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৭৫০টি ভোট কক্ষ রয়েছে এবং সিলেট সিটিতে ২৭টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এখানে ১৩৪টি ভোট কেন্দ্র ও ৯২৬টি ভোট কক্ষ রয়েছে।

তিন সিটির ভোটার সংখ্যা
রাজশাহী সিটি করপোরেশনে তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে দুই লাখ ৪২ হাজার ৬৬৬ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনে তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী তিন সিটিতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৮শে জুন। যাচাই-বাছাই হয় ১ ও ২রা জুলাই, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ৯ই জুলাই। আর, প্রতীক বরাদ্দ হয় ১০ই জুলাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.