নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে তৈরি পোষাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেইফটি (অ্যালায়েন্স) আগামী ডিসেম্বরের পর আর থাকছেনা। সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হেল্পলাইন হস্তান্তর বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে, অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে পোষাক খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশের জন্য তাদের সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। এজন্য সরকারকে আলাদা একটি প্লাটফরম গঠনেরও অনুরোধ করা হয়েছে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যালায়েন্সের সদস্য ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, অ্যালায়েন্সের সদস্য সিন কেডি, সাইমন সুলতানা, ডেনা ভিডেন, ফুলকির নির্বাহী পরিচালক সুরাইয়া হক উপস্থিত ছিলেন।

জেমস মরিয়ার্টি বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে অ্যালায়েন্সের মনিটরিং কার্যক্রম শেষ হবে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে কথা বলেছি, যাতে অ্যালায়েন্স চলে যাবার পরেও পোষাক কারখানায় সরকারের মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। সেজন্য সরকার একটি আলাদা প্ল্যাটফরম গঠন করতে পারে।

জেমস মরিয়ার্টি বলেন, বাংলাদেশের পোষাক শিল্প এক সময় বিপদজনক কর্মপরিবেশ ছিল। এখন সেই অবস্থা আর নেই। মালিক, শ্রমিক, অ্যালায়েন্স, অ্যার্কড মিলে সেই অবস্থানের পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পোষাকশিল্প শতভাগ নিরাপদ। এক প্রশ্নের জবাবে জেমস মরিয়ার্টি বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের বেতন কত হওয়া উচিত, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয়। এ বিষয়ে অ্যালায়েন্স কোন মন্তব্য করবে না। শ্রমিকদের বেতন মুক্তবাজার অর্থনীতির বিষয়। কোনো ব্রান্ড এটা ঠিক করে দেবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের পোষাক শিল্পের শ্রমিকদের সহায়তার জন্য একটি গোপন হেল্প লাইন চালু করে। এই হেল্প লাইনটি ৭ দিন ২৪ ঘন্টা চালু রাখা হয়। এই হেল্প লাইনের মাধ্যমে লাখ লাখ শ্রমিকরা তাদের সমস্যা ও উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয়গুলো হেল্পলাইনের মাধ্যমে ফোন করে সহায়তা পেয়েছেন। অ্যালায়েন্সের তত্ত্বাবধানে এই হেল্প লাইন এতোদিন চালু থাকলেও এখন থেকে হেল্প লাইনটি পরিচালনা করবে ফুলকি নামের একটি সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, গত ৫ বছরে অ্যালায়েন্সের গোপন হেল্প লাইন ১ হাজার কারখানার ১৫ লাখ শ্রমিক এটি ব্যবহার করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৩ হাজার শ্রমিক তাদের বিভিন্ন অসুবিধার কথা জানিয়েছেন। পরবর্তীতে অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে পোষাক মালিক বা মালিকের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.