শরীফুল হাসান : জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভারতীয় নির্মাতারা চলচ্চিত্র বানাবে শুনে যারা রাগ করছেন তাদের সেই রাগকে সম্মান করেই বলছি, আচ্ছা বলেন তো গত ৪৩ বছরেও কেন আমরা পারলাম না বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটা অসাধারণ চলচ্চিত্র বানাতে? এখনো কেন আপনারা বানিয়ে দেখাচ্ছেন না?

আচ্ছা জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে কেন কোন চলচ্চিত্র নেই? আচ্ছা আমাদের এই যে এতো বড় মুক্তিযুদ্ধ কেন এ নিয়ে শতশত চলচ্চিত্র নেই? কেন চলচ্চিত্র নেই সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়ে? আচ্ছা বলেন তো বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কয়টা ভালো মানের উপন্যাস আছে? বলেন তো কী দেখে কী পড়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিশাল ক্যানভাস জানবে পরবর্তী প্রজন্ম? বলেন তো কেন এক প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ বলতে শুধু কোটা বুঝবে? কেন আরেক দল তরুণরা মুক্তিযুদ্ধ মানে শুধুই মুক্তিযুদ্ধ কোটা বুঝে?

আচ্ছা কেন ৪৭ বছরেও আমরা শহীদদের তালিকা করতে পারলাম না? কেন আজও মুক্তিযোদ্ধারা ভিক্ষা করে বেড়াবে? কেন বঞ্চিত শহীদের সন্তানেরা? কেন পারলাম না সারাদেশের সব মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করতে? কেন প্রতিটি যুদ্ধের ইতিহাস নেই? কেন নেই প্রত্যেক শহীদের ইতিহাস? আমি জানি না চেতনা মানে কী? কেন আজও স্বাধীনতাবিরোধীদের রজনীতি নিষিদ্ধ করা হলো না? জামায়াত কেন নিষিদ্ধ হচ্ছে না? এতো বড় মুক্তিযুদ্ধ যেই দেশে হলো সেই দেশে কেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শত শত গল্প কাব্য উপন্যাস নাটক সিনেমা হবে না?

অামা‌কে ব‌লেন তো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আসলে কী? যাদের দেশপ্রেম নেই, যারা বিদেশে টাকা পাচার করে, হাওয়া ভবন বানায়, দেশের হাজার কো‌টি টাকা ব্যাংক লুট করে, যারা অসৎ, যারা বি‌দে‌শে সন্তানদের পাঠিয়ে দেয়, যারা কানাডায় বেগমপাড়া বানায়, যারা সুশাসন চায় না তারা কী তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী?

অাচ্ছা কথায় কাজে যারা অসৎ তারা কী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে? আচ্ছা ৩০ লাখ শহীদ কী এই দেশটা চেয়েছিল? আচ্ছা বঙ্গবন্ধু কী সোনার বাংলা বলতে এমন দেশ চেয়েছিলেন? যিনি সারাজীবন সততার সাথে রাজনীতি করেছেন তাঁর নেতাকর্মীরা আজ টাকা আর ক্ষমতার লোভে মাতোয়ারা। আজকে ইউপি চেয়ারম্যানরাও কোটি টাকায় মনোনয়ন কেনে? এই কী তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?

অাপনারা য‌ারা উন্নয়‌নের বু‌লি অাওড়ান সবসময় তারা বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধাধের কাছে যান তো। তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন এই বাংলাদেশটাই তারা চেয়েছিলেন কী না? তারা খু‌শি কী না এদেশ নি‌য়ে? অাচ্ছা বলেন তো আপনার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে কী? যখন তখন যা‌কে তা‌কে গা‌লি দেওয়াটা কী অাপনার কা‌ছে মু‌ক্তিযুদ্ধের চেতনা? বলেন তো বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা, লাখো মুক্তাযোদ্ধা যে জন্য লড়াই করেছেন এই রাষ্ট্র কী পুরোপুরি সেই চেতনায় আছে? না থাকলে কেন নেই? বলেন সর্বস্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতে, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আপনি বা অাপনারা কী ক‌রে‌ছেন?

অামার কা‌ছে জান‌তে চান? হ্যা, বড় গলায় ব‌লি, অামার সব‌চে‌য়ে বড় অাফ‌সোস মু‌ক্তিযু‌দ্ধের সময় অামার জন্ম হয়‌নি, অা‌মি মু‌ক্তি‌যোদ্ধা নই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, জাতীয় চার নেতার অবদান, ৩০ লাখ শহীদ যে কারণে জীবন দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধে যে মূল উদ্দেশ্য সেসব থেকে আমি কখনো বিচ্যুত হইনি। আমার পুরো পরিবার আমার বাবা দাদারা কখনো ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে, কখনো পাকি হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়েছে। আমরা কখনো কোনদিন দেশপ্রেম থে‌কে বিচ্যুত হই‌নি। বাংলাদেশের যে গুটিকয়েক আসন কখনো কোনদিন স্বাধীনতাবিরোধীরা জয় পায়নি আমি সেই এলাকার সন্তান।

হ্যা, আমার কাছে য‌দি জান‌তে চান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে কী অা‌মি বল‌বো, সবসময় দেশ‌কে ভা‌লোবাসা, একদিন এক মুহুর্তের জন্যও অসৎ না হওয়া মা‌নে অামার কা‌ছে মু‌ক্তিযু‌দ্ধের চেতনা। আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে স্বাধীনতা বিরোধীদের ঘৃনা করা। আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে নিজের স্বার্থ ভুলে গিয়ে এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে আজীবন সৎ থাকা। আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে কখনো কোনদিন দেশের ক্ষতি না করা।

আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে আমি কখনো বিদেশে টাকা পাচার করবো না, আমার বা আমার পরিবারের কারও বিদেশে কোন সম্পদ থাকবে না। আমার এই রাষ্ট্রে কোন গাড়ি বাড়ি বা সম্পদ নেই। আমার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে আমি এই দেশে যে কোন অন্যায় অনিয়মের বিরেদ্ধে বলবো তা সে যেই করুক।

অাপনারা যারা বড় বড় কথা ব‌লেন, যারা ব‌লেন, এই রাষ্ট্রে এই দেশে চারপাশে অনিয়মের পাহাড়, ক্ষমতার অপব্যবহার আমি সেখানে বড় গলায় বলতে পারি, আমি কখনো কোনদিন এক পয়সারও দুর্নীতি করিনি। অা‌মি বল‌তে পা‌রি, ১৫ বছর সাংবাদিকতা করেছি কখনো কোনদিন কারও কাছ থেকে এক পয়সাও নেইনি।অা‌মি বল‌তে পা‌রি কোনদিন কোন নেতা বা অন্য কেউ আমাকে কোন উপহার দিতে পারেনি। অামার কা‌ছে মু‌ক্তিযু‌দ্ধের চেতনা মা‌নে সব নষ্ট হ‌য়ে গে‌লেও নি‌জে নষ্ট না হওয়া।

অা‌মি বল‌তে পা‌রি কখনো কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি। কোনদিন কোন দলের নাম ভাঙিয়ে কোন সুবিধা নেইনি। জ্ঞানত কোনদিন কোন মানুষকে আমি কষ্ট দেইনি। অামার কা‌ছে সৎ, সাধারণ জীবন মা‌নেই মু‌ক্তিযু‌দ্ধের চেতনা। অামার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে মাথা উঁচু করে বাঁচা। অামার কা‌ছে মু‌ক্তিযু‌দ্ধের চেতনা মা‌নে শত সংক‌টেও দেশ নি‌য়ে স্বপ্ন দেখা। রোজ সকা‌লে নতুন অাশা নি‌য়ে লড়াই করা। সবাইকে বলা শুভ সকাল বাংলা‌দেশ।
সূত্র : লেখাটি লেখকের ফেসবুক পাতা থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.