ডেস্ক রিপোর্ট: নতুন প্রজন্মকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ’আগামী দিনেও যেন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত চাই। আমাদের নতুন প্রজন্ম সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। সেইভাবেই আমরা তাদেরকে গড়তে চাই।’

বৃহস্পতিবার (১৯জুলাই) সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এইচ.এস.সি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও পরিসংখ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন। এরপর শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশী মেধাবী। কাজেই সেই মেধাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে, আমাদের দেশ গড়ার। কারণ বিশ্ব যখন এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদেরকেও সেই সাথে সাথে এগিয়ে যেতে হবে।’

দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে সারা বিশ্বে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছি। সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল যাতে উন্নত হয় সেই দিকে বিশেষভাবে আমরা দৃষ্টি দিয়েছি। আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালার লক্ষ্যটা হচ্ছে, প্রতিটি গ্রামকে আমরা উন্নত করতে চাই। গ্রামের মানুষ যেন নাগরিক সুবিধা পায়, সেই দিকে আমরা দৃষ্টি দিতে চাই। সরকার হিসেবে জনগণের সেবা করা, এটাই আমাদের কর্তব্য। সেইভাবেই আমরা দেশ গড়তে চাই। সেই দিকেই লক্ষ্য রেখেই আমরা একটা শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে চাই। যেন আগামী দিনেও আমাদের দেশের এই অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই কিন্তু আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষাটাকে আরও উন্নত মানের করতে চাই। কারণ শিক্ষাই হচ্ছে আমাদের দেশ গড়ার কারিগর ‘

এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতা বলেছিলেন, ’আমি সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই’।“

সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য সোনার ছেলে চাই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ’কাজেই আমাদের যে নতুন প্রজন্ম তারা সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। সেইভাবেই আমরা তাদেরকে গড়তে চাই। আর আমাদের ছেলে-মেয়েরা যে কত মেধাবী, সেটা আমরা নিজেরাই দেখছি।’

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী আর স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসাইন।

এবার ১০টি শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী। সারাদেশে পাস করেছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন। ছেলেদের পাসের হার ৬৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, মেয়েদের পাসের হার ৬৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।

এ বছর সারাদেশের ২,৫৪১টি কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ জন ছাত্র ও ৬ লাখ ১৮ হাজার ৭২৭ জন ছাত্রী। গত ২ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হয়। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলে ১৩ মে পর্যন্ত। ১৪ থেকে ২৩ মে’র মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা।

এইচএসসিতে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে অংশ নেয় ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন শিক্ষার্থী। আর মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ১ লাখ ১২৭ জন, কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম)-এ ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ জন ও ডিআইবিএসে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৯৬৯। এছাড়া বিদেশের সাতটি কেন্দ্রে ২৯৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। যার মধ্যে ১৫৯ জন ছাত্র ও ১৪০ জন ছাত্রী রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.