আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তুরস্কে ২০১৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর দুই বছর ধরে জারি থাকা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নিয়েছে দেশটির সরকার। সেদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বুধবার (১৮ জুলাই) এই জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি জানাচ্ছে, রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান গত ২৪ জুনের নির্বাচনে জেতার কয়েক সপ্তাহ পরেই জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের এমন ঘোষণা এলো। এর আগে, এরদোগানের প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রচারণা চালানোর সময় নির্বাচনে জিতলে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

দেশটির সরকারি ও বিভিন্ন এনজিও সূত্র বলছে, জরুরি অবস্থা জারির পর দেশটিতে ১ লাখ ৭ হাজার মানুষ সরকারি চাকরি হারিয়েছেন এবং ৫০ হাজার লোককে জেলে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে।

এদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা-নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও অতীতে এরদোগানের রাজনৈতিক মিত্র ছিলেন গুলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্ক সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তুরস্কের জনগণ তা ব্যর্থ করে দেয়। ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে প্রায় ২৫০ জন নিহত হন।

পরবর্তীতে অভ্যুত্থানের এ চেষ্টায় গুলেন ও তার সমর্থকদের দায়ী করে তুরস্ক। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গুলেন। এরপর দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান।

জরুরি অবস্থা জারির পর এর মেয়াদ সাতবার বৃদ্ধি করা হয়। জরুরি অবস্থার কারণে দেশটিতে নতুন আইন পাস এবং নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা স্থগিত করার ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তবে জরুরি অবস্থা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল দেশটির ব্যবসায়ীরা। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ নিয়ে তুরস্কের সমালোচনা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.