ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে থাকা সোনার পরিমাপ নিয়ে সারাদেশে চলছে আলোচনা সমালোচনা। রাজনৈতিক সুবিধা নিতে মুখ বন্ধ নেই রাজনৈতিকদের। তবে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল নেই বলে দাবি করছে সরকারের অর্থমন্ত্রণালয়। আর বিষয়টি ঠিক কি ঘটেছে তা জানতে খোদ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্তা ব্যক্তিদের ডেকেছেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বিদেশ সফরে থাকায় সংস্থার সদস্য কালিপদ হালদার বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে দুইটি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ভল্টের সোনার বিষয়ে অভিহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংবাদপত্রে ভল্টের সোনার পরিমাপ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বুধবার (১৮ জুলাই) সচিবালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে জরুরি সভা করে অর্থমন্ত্রণালয়। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিদেশ সফরে রয়েছেন।

সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘দুই পক্ষ (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংক) একমত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে তাকে এ বিষয়ে অভিহিত করা হবে। তিনি পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন, তদন্ত কমিটি হবে? নাকি পর্যালোচনা কমিটি হবে? কোন পর্যায়ের হবে তা এ সময় বলতে পারছি না।’

ছয় স্তরের নিরাপত্তায় থাকা ভল্টের নিকট যেতে খোদ গভর্নরকে কয়েক পর্যায়ের অনুমতি নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে তাতে রক্ষিত সম্পদের কোনো হেরফের হতে পারে এমনটি মনে করেন না- প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

জানা গেছে, ২০১২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এর ভিত্তিতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। প্রতিবেদনে ভল্টে রক্ষিত সোনার মান এবং অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে বেশ কিছু চিঠি আদান-প্রদান হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ এ শাখার বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘না, ওই বিষয়ে আমি কোনো কথা বলবো না। এটি নিয়ে কথা বলার মতো কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। সে জন্য আমি কথা বলবো না। কখন বলবো তাও বলতে পারছি না। এটি সেনসেটিভ ইস্যু।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.