নিজস্ব প্রতিবেদক : অত্যাধুনিক ই-পাসপোর্ট ও ই-গেইট চালু করতে জার্মান কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন অধিদফতর। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

‘ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং বিশেষ অতিথি জার্মানির পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নেইলস আনেন।

চুক্তি সাক্ষর করেন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান ও জার্মানির ভেরিডোস জিইউএমবিএইচ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কুন্স।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এ বছরের ৩০ জুন এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) প্রকল্প শেষ হলেও আপাতত আবেদনকারীদের এমআরপি দেয়া হবে। আশা করি, শিগগিরই ই-পাসপোর্ট প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’ এ সময় তিনি এই প্রকল্পের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

সিইও কুন্স বলেন, ‘আমরা ৫০টি দেশের ই-পাসপোর্ট করেছি। আমাদের নতুন করে বাংলাদেশের দায়িত্ব দেয়ায় আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ তিনি বলেন, ‘এই পাসপোর্টে রঙিন ছবিসহ পলিকার্বনেটেড ডাটাপেইজ থাকবে, যা শুধুমাত্র পৃথিবীর ২টি দেশে রয়েছে। এছাড়াও এই পাসপোর্ট অত্যন্ত নিরাপদ।’

জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস ৩ কোটি ই-পাসপোর্ট বুকলেট সরবরাহ করবে বাংলাদেশকে। এ লক্ষ্যে ঢাকার উত্তরায় একটি এসেম্বলি কারখানা স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পটি জিটুজি (সরকার টু সরকার) ভিত্তিতে টার্ন কি পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর।

এ প্রকল্পের আওতায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলো স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনায় (ই-গেইট) আওতায় আনা হবে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোয় ৫০টি ই-গেইট স্থাপন করা হবে। ভেরিফিকেশনে ব্যক্তির তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে ই-গেইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। এই পদ্ধতিতে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা অধিক কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মূল্য ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএসবিএইচের সঙ্গে চুক্তির মূল্য ৩ হাজার ৩৩৮ কোটি, কাস্টম ডিউটি, ভ্যাট, এআইটি ১ হাজার ২৪ কোটি এবং প্রকল্প ব্যয় ২০৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রচলিত ছিল। ২০১০ সালে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরে বাংলাদেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) প্রদান শুরু হয়। এমআরপিতে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকলেও এতে জালিয়াতির সুযোগ থেকে যায়। অভিবাসন প্রক্রিয়াকে অারও সহজ ও নিরাপদ করতে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

ই-পাসপোর্ট হলো বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ থাকবে। এই মাইক্রোপ্রসেসর চিপে পাসপোর্টধারীর বায়োগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক (ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ) তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পাসপোর্টধারীর পরিচয়ের সত্যতা থাকে। ই-পাসপোর্ট চালু হলে জালিয়াতি করা কঠিন হবে বলে দাবি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.