ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রিসমাস আসতে এখনো অনেক দিন বাকী। কিন্তু এরইমধ্যে ৪৫ লাখ মানুষের দেশে যেন উৎসব লেগেছে। প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ থেকে বুঝতে শেখা ছোট্ট শিশুটিও ফুটবল উন্মাদনায় মেতেছে। এটাই তো স্বাভাবিক। ইতিহাসে এবারই যে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠে গেছে তার দল ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙ্গে ক্রোয়াটদের সামনে খুলে গেছে স্বপ্নের দরজা!

১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ট্রফির লড়াইয়ে নামবে ইউরোপের এই দুই দেশ।

তার আগে সাফল্যের হাওয়ায় উড়ছে ক্রোয়েশিয়া। বলকান অঞ্চলের দেশটিকে নিয়ে এতোটা উন্মাদনা এর আগে কমই দেখা গেছে। এমন কী বিশ্বকাপ শুরুর আগেও কেউ ভাবেনি তারা উঠে আসবে ফাইনালে। সবশেষে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড বাধা পেরোনো যাবে সেটা নিয়েও ছিল সংশয়!

/uploads/files/NHLTpv6t5V0k7xnr1DTx8OnYI4dv3QppR0hpfsni.jpeg

সেই বাধাটাও পেরোনোর পর এক ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মডরিচ বলছিলেন, ‘অনেকেই অনেক কথা বলেছিল, ইংলিশ সাংবাদিক, ফুটবল বোদ্ধারা ধারণাই করতে পারেনি অমরা জিততে পারবো। সবাই মিলে তাচ্ছিল্য করেছিল আমাদের। মাঠের ফুটবল দিয়ে আমরা বুঝিয়ে দিলাম এটা তাদের একটা বড় ভুল।’

সমালোচনা থেকে অনুপ্রেরণাও নিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা। ১৯৯৮ সালে দল পারেনি। সেমিতেই শেষ হয় মিশন। এবার মিলল স্বপ্নের ফাইনালের টিকিট। মরডিচ বুধবারের সেই ম্যাচের পর জানালেন, ‘ওদের সমালোচনায় বরং লাভই হয়েছে। তবে আবারো বলো ওদের আরো মার্জিত ও প্রতিপক্ষকে সম্মান করা শিখতে হবে। আমরা আবারও প্রমাণ করেছি আমরা ক্লান্ত নই। যেভাবে খেলেছি অতিরিক্ত সময়ের আগেই আমরা জিততে পারতাম।’

/uploads/files/5Z0vZa3q7wqcIdiAPbHefMsIDRaQG24uzHPAesXD.jpeg

রাশিয়া বিশ্বকাপে মৃত্যুকপ বলে পরিচিত ‘ডি’ গ্রুপে ছিল ক্রোয়েশিয়া। প্রথম ম্যাচেই ২-০ গোলে নাইজেরিয়াকে হারায় তারা। তারপর আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বুঝিয়ে দেয় এবার ঝড় তুলতেই এসেছেন সোনালী প্রজন্মের ফুটবলাররা। এরপর আইসল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি।

দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্কের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র থাকে। এরপর অতিরিক্ত সময়েও ফল না আসায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে ৩-২ গোলে জিতে তারা উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে।

/uploads/files/gKA5PF1CCEYPRZyqTaFW7TSMg4N5IRziKyUL38JZ.jpeg

সেমিফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ক্রোয়াটরাও জিতে টাইব্রেকারে। এখানে স্বাগতিক রাশিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে সমতা থাকার পর নিস্পত্তি হয়ে টাইব্রেকারে। এবারো বাজিমাত। দল জিতে ৪-৩ গোলে। আর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড বধের গল্পটা তো এখনো তরতাজা!

এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ক্রোয়েশিয়া। এমন সাফল্যে উড়ছেন ফুটবলাররা। ফাইনালের আগে মডরিচ বললেন, ‘অনেক লড়াইয়ের পর আমরা ফাইনালে উঠেছি। এটা ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের সব থেকে বড় অর্জন। এবার আরেকটা ম্যাচ জিতে ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরতে চাই আমরা!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.