ডেস্ক : বাংলাদেশ ৪৩ অলআউট। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২ উইকেটে ২০১। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ মাত্র ১৮.৪ ওভারে। আর দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবমিলিয়ে খেললো ৬৮ ওভার। তাও ব্যাটিংয়ে আবার মাত্র চারজন।  আরেকটি পার্থক্য পুরো বাংলাদেশের গড়া স্কোরের দ্বিগুণেরও বেশি রান যোগ হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনিং জুটিতেই! শুরুর তিন ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকের রানই বাংলাদেশের মোট স্কোরের চেয়ে বেশি! এই তুলনাই জানান দিচ্ছে আসলে অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামের উইকেট বড় সমস্যা নয়, আসল সমস্যাটা ছিল বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ে, ক্রিকেটারদের মনে এবং মননে! আর তাই প্রথমদিন শেষে বাংলাদেশ এই টেস্টে পিছিয়ে এখন ১৫৮ রানে! এই টেস্টের ফল কি হতে যাচ্ছে সেটা জানার জন্য গণকের প্রয়োজন নেই।

তবে দেখার বিষয় হল প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যে বড় ভুল করেছিলেন সেই ভুল থেকে তারা দ্বিতীয় ইনিংসে বেরিয়ে আসতে পারেন কিনা? অন্তত ভুলের সেই সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা তাদের ব্যাটিংয়ে দেখা যেতে পারে কিনা- অ্যান্টিগা টেস্টে সেটুকুই এখন বাংলাদেশ দলের প্রার্থনা!

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনারদের ব্যাটিংয়ে পরিস্কার অ্যান্টিগার উইকেট ‘মাইনফিল্ড’ নয়। উইকেট সবুজ থাকলেও এখানে শুরুতে একটু দেখেশুনে খেললে ইনিংসটা লম্বা করা যায়। টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম এবং প্রধান শর্তই তো হল- প্রথমে সেট হও, তারপর স্ট্রোক খেলো। কিন্তু বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেটে টিকলেন শুধুমাত্র একজন- লিটন কুমার দাস। তবে ৫৩ বল খেলার পর এই ওপেনারও যে কায়দায় আউট হলেন সেটা আরও বিস্ময়কর! মনে হচ্ছিল যেন টি-টুয়েন্টিতে শেষ ওভার খেলছেন তিনি!

সবুজ উইকেটে টিকে থাকতে হলে, লম্বা ইনিংস খেলতে হলে, কৌশলের সঙ্গে অতি অবশ্যই যে জিনিষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তার নাম সাহস। বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংয়ে অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রায় সবাই মেরেকেটে ‘ভয়’ তাড়ানোর একটা চেষ্টা করছেন। শেষমেষ সেই ‘ভয়ের’ কাছেই উইকেট হারিয়ে ফেরেন।

-ভয়, কিসের?

ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে যথাযোগ্য লড়াইয়ের ভয়! মানছিন গ্যাব্রিয়েল শ্যানন ও খেমার রোচ সবুজ উইকেটে দুর্দান্ত বল করছিলেন। কিন্তু একজন ব্যাটসম্যানকেও দেখা গেল না এই উইকেটে এমন গতির পেস বোলারদের মোকাবেলার জন্য যে সাহসী টেকনিকের প্রয়োজন; তার প্রয়োগ ঘটাতে। স্লিপে চারজন ফিল্ডিং করছেন, আর ব্যাটসম্যানরা দেদারসে অফস্ট্যাম্পের লাইনের বলে খোঁচা দিয়ে চলেছেন। একজন নয়, প্রায় প্রত্যেকেই! আগেরজন যে ভুল করে এসেছেন, পরেরজন ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি করে এলেন।

টেস্টে নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ অলআউটের দায়টা পুরোপুরি বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের। তবে টেস্ট ক্রিকেট সবসময় দ্বিতীয় একটা সুযোগ রাখে। দেখা যাক বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসের এই মহাভুল দ্বিতীয় ইনিংসে ‘মহাভালো’কিছু দিয়ে শোধবোধ করে দিতে পারে কিনা?

জানি, দ্বিতীয় এই অ্যাসাইনমেন্টটা আরও কঠিন, অনেক কঠিন!

(সংক্ষিপ্ত স্কোর, প্রথমদিন শেষেঃ বাংলাদেশ ১ম ইনিঃ ৪৩/১০ (লিটন দাস ২৫, রোচ ৫/৮) ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিঃ ২০১/২ (ব্রাথওয়েট ৮৮, স্মিথ ৫৮, পাওয়েল ৪৮, আবু জায়েদ ১/৫৫)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.