ডেস্ক :  ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মধ্যেই শুরু হয়ে গেল সাকিব আল হাসানদের ব্যস্ততা। মাস চারেক পর আবারো টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে সর্বশেষ টেস্ট খেলতে নেমেছিল টাইগাররা। সেই বিরতি কাটিয়ে এবার ক্যারবীয় দ্বীপে নতুন মিশন। দশ মাস পর সাদা পোশাকে খেলতে নামবেন সাকিব আল হাসান। একইসঙ্গে টেস্টে দ্বিতীয় মেয়াদে নেতৃত্বের অভিষেক হচ্ছে তার। বাংলাদেশের সর্বশেষ দুটো সিরিজে দেখা যায়নি এই অলরাউন্ডারকে। ফিরেই দলকে নেতৃত্বে দিচ্ছেন সাকিব।

স্বাগতিক উইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি শুরু হবে আজ বুধবার রাত আটটায়। সরাসরি দেখা যাবে চ্যানেল নাইন ও গাজী টিভিতে।

এই ম্যাচ দিয়েই অভিষেক হচ্ছে বাংলাদেশের হেড কোচ স্টিভ রোডসের। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর থেকেই কোচ শূন্য ছিল দর। সেই শূন্যতা শেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়োগ দিয়েছে সাবেক এই ইংলিশ ক্রিকেটারকে। টাইগারদের হয়ে মিশন শুরু হচ্ছে রোডসের।

একইসঙ্গে এই ম্যাচ দিয়েই টেস্টে অভিষেক হতে পারে মিডিয়াম পেসার আবু জাহেদ রাহীর। টিম ম্যানেজম্যান্ট থেকে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। বাংলাদেশের হয়ে তিন ওয়ানডে খেলে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আর প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৬২ ম্যাচে শিকার করেছেন ১৯২ উইকেট।

এছাড়া দলে তেমন কোন চমকের ইঙ্গিত মিলেনি। তামিম ইকবালের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে ওপেনে দেখা যাবে লিটন দাসকে। তারপর মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর পরে সাত নম্বরে দেখা যেতে পারে নুরুল হাসান সোহানকে। ভিসা জটিলতা কাটিয়ে এরইমধ্যে দলের সঙ্গে যোগ দিযেছেন অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। তিন পেসার রুবেল হোসেন, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও আবু জায়েদ রাহীকে নিয়ে খেলবে টাইগাররা।

নতুন মিশনের আগে হেড কোচ স্টিভ রোডস দল নিয়ে আশাবাদী। বলছিলেন, ‘আশা করছি, এই টেস্ট সিরিজ খুব কঠিন হবে না। আমরা টেস্ট ম্যাচ জয়ের আপ্রাণ চেস্টা করবো। এজন্য টেস্ট সিরিজে আমাদের শুরুটা ভাল করতে হবে। শুরুটা ভালো হলে পরের দিকে কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজটা নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। তাদের কাছে হারলে র‌্যাংকিংয়েও পেছাবে টাইগাররা। ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে এখন টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের আটে রয়েছে দল। ৭২ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজটি ১-০ ব্যবধানে জিততে পারলেই বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে র‌্যাংকিংয়ের আট নম্বরে উঠে যাবে ক্যারবীয় দলটি।

সবমিলিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে রেকর্ড তেমন একটা ভাল না বাংলাদেশ দলের। মোট ১২টি টেস্ট খেলে দুটিতে জয়, দুটিতে ড্র ও ৮টি ম্যাচে হেরেছে টাইগাররা। ২০১৪ সালের সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটাও মনে রাখার মতো ছিল না। তখন হোয়াইটওয়াশের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছিল মুশফিকুর রহিমের দল।

তবে অতীত নিয়ে ভাবছেন না বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। নতুন মেয়াদে দ্বায়িত্ব নিয়ে প্রথম চ্যালেঞ্জের আগে জানিয়ে রাখলেন, ‘দেখুন, এর আগে কী হয়েছে সেসব নিয়ে আমি খুব একটা ভাবছি না। আমি মনে করি আগেরবারের থেকে এবারের অধিনায়কত্ব আরও সহজ হবে, কারণ আমাদের দল আগেরবারের তুলনায় অনেক ভালো।’

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে তাদেরকেই দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই স্মৃতিটা জাগিয়ে দিতে পারে দলকে। তবে সেটি ছিল উইন্ডিজের দ্বিতীয় সারীর দল। এবারের মিশনের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে রান পেয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। এবার ‘আসল’ লড়াইয়ে কিছু করে দেখানোর পালা টাইগার ক্রিকেটারদের।

বাংলাদেশ দল: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, রুবেল হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, আবু জায়েদ রাহী, নাজমুল হোসেন শান্ত ও শফিউল ইসলাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), দেবেন্দ্র বিশু, ক্রেইগ ব্রেথওয়েট, রোস্টন চেজ, মিগুয়েল কামিন্স, শেন ডওরিচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, শিমরন হেটমেয়ার, শাই হোপ, কিমো পল, কিরেন পাওয়েল, কেমার রোচ ও ডেভন স্মিথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.