আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  থাইল্যান্ডের গুহায় আটকা পড়া ১২ কিশোর ফুটবলারের নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে উদ্ধারকর্মীরা। এতে দেখা যায়, তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছেন। গুহার ভিতরে তাদের হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। কিশোর ফুটবলারদের কোচ একে একে তাদের পরিচয় করে দেন। তারাও থাই ঐতিহ্য কায়দায় নিজের পরিচয় ও নাম বলেন।

উদ্ধারকারী ডুবুরিদের কাছ থেকে তারা ১০ দিনের খাদ্য ও ওষুধ গ্রহণ করেছে। কিশোরদের দেওয়া হয়েছে এনার্জি জেল। এনার্জি জেল বিশেষ এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট সংযুক্ত খাবার, যা খেলে শরীরের হারানো শক্তি সহজেই ফিরে আসে। এটা চকলেট বার প্যাকেটের মত পাওয়া যায়।  এনার্জি জেল দেওয়ার পাশাপাশি তাদের শরীর উষ্ণ ও শুষ্ক রাখার জন্য পানি নিরোধক পোশাকও দেওয়া হয়।

এদিকে তাদের উদ্ধার করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তার আগে কিশোরদের সাঁতার শেখা ও গুহার বাড়তি পানি কমানোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারণ এই অঞ্চলে বর্ষা কেবল শুরু হয়েছে। অব্যাহতভাবে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ওয়াইল্ড বোয়ার ফুটবল দলের ১২ কিশোর ও তাদের কোচ ২৩ জুন বেড়াতে গিয়ে উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাই এলাকার থাম লুয়াং নং নন গুহায় আটকা পড়ে। কিশোরদের  বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।  গুহাটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম গুহার একটি। এখানে যাত্রাপথের দিক খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভারী বর্ষণ আর কাদায় থাম লুয়াংয়ের প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে গেলে তারা আটকা পড়ে। নিখোঁজের পর গুহার পাশে তাদের সাইকেল এবং খেলার সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়।

উদ্ধারকারীরা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে কিভাবে উদ্ধার করা যায়-তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তবে কর্মকর্তারা জানান, কিশোরদের উদ্ধার কার্যক্রমে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

উদ্ধারাকারী তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। তাদেরকে নানা ভাবে উৎফুল্ল রাখার চেষ্টাও করা হচ্ছে। এদিকে গুহার মধ্যে টেলিফোন লাইন ইনস্টল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যাতে করে আটকা পড়া শিশুদের সঙ্গে পরিবার যোগাযোগ করতে পারে। এত তাদের মনোবল চাঙ্গা থাকবে।

/uploads/files/xZlNBTMEbdvpHiHDeADbmjJitPjn8ILrS5VzclYz.jpeg

কিভাবে সন্ধান পাওয়া গেল?

নয় দিন আটকে থাকার পর  সোমবার (২ জুলাই) দুইজন বৃটিশ ডুবুরি  চিয়াং রাই এলাকার থাম লুয়াং নং নন গুহায় তাদের জীবিত সন্ধান পান। পরে থাইল্যান্ডে নৌ বাহিনী গুহায় আটকা পড়া কিশোরদের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন।

ডুবুরিরা তাদের টর্চলাইটের আলো ফেলে ১৩ জনকেই দেখতে পায়। সে সময় তারা খুব ক্ষুধার্ত ছিলো।

 

কিভাবে উদ্ধার সম্ভব?

গুহায় আটকা পড়া কিশোরদের উদ্ধার করা একটা জটিল প্রক্রিয়া। এরপরও দেশটি বিশেষজ্ঞরা তাদের উদ্ধার করার জন্য নানা উপায়ে বিচার-বিবেচনা করছেন। সাত জন ডুবুরি ও চিকিৎসক,নার্স উদ্ধার কাজের যুক্ত রয়েছে। তারা বিভিন্ন এই খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

বিশেষ করে বর্ষাকাল হওয়ায় উদ্ধার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। থাম লুয়াং গুহা থেকে বর্ষার পানি সরতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত লাগে পারে।

এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানির প্রবল স্রোতে অনভিজ্ঞ ডুবুরিদের বের করে আনাটা বিপদজ্জনক।

আরেকটি উদ্ধারকারী টিম ভিন্ন উপায়ে খুদে ফুটবলারদের কিভাবে বের করে আনা যায় তার সন্ধান করে দেখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.