বিশেষ প্রতিনিধি : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর মন্ত্রী পরিষদে একটি কমিটি গঠন করা হয় কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও কমিটির সিদ্ধান্ত আসেনি ও প্রজ্ঞাপনও জারি হয়নি।

এর ফলশ্রুতিতে গত শনিবার (১ জুলাই) ফের আন্দোলনে নামে কোটা সংস্কারের আন্দোলনরত  শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ছাত্রলীগের মারমুখী আচরণে  ক্যাম্পাস এলাকায় দাঁড়াতেই পারছেন না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ১ জুলাই থেকে  ছাত্রলীগের হামলায় বেশ কয়েক জন কোটা সংস্কারের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আহতও হয়েছেন।

কিন্তু মাস দুয়েক আগেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে নীরব সমর্থন ছিল ঢাবি’ ছাত্রলীগের। এমনকি কোটা সংস্কার আন্দোলন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অনেক হল শাখার নেতা।

তবে হঠাৎ করে কেন ঢাবি ছাত্রলীগের এমন মারমুখী আচরণে প্রশ্ন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে।  এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল তখন ছাত্রলীগের নিষ্ক্রিয়তার জন্য আন্দোলন বড় আকার ধারণ করছে।  সরকারি দল আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের এমনটি ধারণা।

এ বিষয়ে সরকারের অনেক দায়িত্বশীল মন্ত্রীও বলছেন, কোটা আন্দোলন কীভাবে এতো বড় হয়েছে ঢাবি‘ ছাত্রলীগ কি করছে?

কেননা, সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনটি সরকারের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিষয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট  ছাত্রলীগের হল শাখার কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রলীগের সমর্থন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এতো বড় আন্দোলন সংগঠিত করা সম্ভব  হত না। কিন্তু তারা এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ না দেখে নিজেদের কথা চিন্তা করছে।  তাই আসন্ন ছাত্রলীগের সম্মেলনের কথা মাথায় রেখে দলের হাই কমান্ডকে অসন্তুষ্ট করতে চাচ্ছে না।

তারা আরও জানায়, গত কয়েক দিনের হামলার সঙ্গে সরাসরিভাবে জড়িত আসন্ন ছাত্রলীগের সম্মেলনে পদ প্রত্যাশীরা। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে আন্দোলন বানচালের চেষ্টা করছে, যাতে করে দলের হাই কমান্ড তাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকে। এতে করে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখাসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পদ পেতে তাদের জন্য সুবিধা হবে বলে মনে করছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক ও ঢাবি ছাত্রলীগের মহসিন হল শাখার সহ সভাপতি হাসান আল মামুন বলেন, আন্দোলনের প্রথম দিক থেকে ঢাবি ছাত্রলীগের নীরব সমর্থন ছিল। কিন্তু সম্মেলনকে কেন্দ্রকে তারা এখন পদ পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করছে। এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের অনেকে আসন্ন সম্মেলনে ঢাবি ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি ও সাধারণ পদের প্রত্যাশী। এছাড়া এরা সবাই কোটাধারি ছাত্রলীগের সদস্য।

কোটা আন্দোলনে প্রথম দিকে ঢাবি ছাত্রলীগের নীরব সমর্থনের কথা অস্বীকার করে ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মোহাম্মদ নিজামুল বলেন, নেত্রীর অবস্থানই ছাত্রলীগের অবস্থান। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত ছিল না। এছাড়া পদ নিয়েও কেউ অতি উৎসাহী নয়। কেউ যদি প্রধানমন্ত্রীকে কে নিয়ে কটুক্তি করে তাহলে তো ছাত্রলীগ বসে থাকবে না। নেত্রীর কথার বাহিরে ছাত্রলীগ কোনো আপস করবে না। আর কারো কাছে যদি কোনো তথ্য থাকে যে কোটার আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত ও পদ পাওয়ার জন্য অতি উৎসাহী হয়ে কিছু করছে আমাদের দিক। আমরা তাদের ছাত্রলীগ থেকে বেড় করে দিব।

মেহেদী হাসান সানি ঢাবি ছাত্রলীগের মহসিন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ প্রত্যাশী।  তিনি সোমবার (২ জুলাই) শহীদ মিনারের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। আমরা তা হতে দেয়নি। যারা সম্মেলনকে সামনে এনে এসব লুকাতে চায়, তারাই আসলে পদ পাওয়ার জন্য এসব কথা বলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.