ডেস্ক : সড়ক দুর্ঘটনারোধে বাসে দু’জন চালক রাখাসহ প্রধানমন্ত্রী যে ৬ নির্দেশনা দিয়েছেন তার বাস্তবায়ন নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে, টানা ৫ ঘন্টার বেশি একজন চালক গাড়ি চালাতে পারবেন না- এই বিধান মানতে গেলে সব গাড়িতে দুইজন চালক রাখতে হবে। দেশে ৫ ঘন্টার কম কোন দুরপাল্লার রুট নেই। এক্ষেত্রে ১৫ হাজার দূরপাল্লার গাড়ির বিপরীতে ৩০ হাজার চালক লাগবে কিন্তু আছে মাত্র ৭ হাজার।

বাস মালিকদের ধারণা মতে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট সড়কপথে বাসে কমপক্ষে ৬ ঘন্টা লাগে। এখন এক ঘন্টার জন্য ওই বাসে আরেকজন চালক রাখা লাগতে পারে। অন্যান্য সব দূরপাল্লার রুটেও দুইজন চালক লাগবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দেওয়ার তিনদিন পরও এ নিয়ে কোন অগ্রগতি জানা যায়নি। যে ৩ জন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারাও নিজেদের মধ্যে কবে বসবেন তা ঠিক করেননি। এ অবস্থায় নির্দেশনাগুলো কার্যকর কবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পরপর কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীসভার বৈঠকে তিনদিন আগে নির্দেশনা দেন।

এ নিয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র, নৌ ও সড়ক পরিবহনের দায়িত্বে থাকা তিন মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন কিন্তু আমাদের সঙ্গে অফিসিয়ালি কোন আলোচনা এখনও হয়নি।’’

তিনি জানান, এখন শিফটিং আকারে দু’জন ড্রাইভার থাকেন। আজকে একজন চালান আর কালকে অন্যজন। যদি প্রতি গাড়িতে সবসময় দু’চালক গাড়িতে রাখতে হয় তাহলে সেটি কিভাবে কার্যকর হবে সেটা আলোচনা করে বের করতে হবে।’’

মালিক নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ’র রয়েছে নিজের মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা ‘এনা পরিবহন’। এ পরিবহনের দেশজুড়ে চালকদের থাকা খাওয়া ও বিশ্রামের ব্যবস্থা বহু আগে থেকে করা আছে। কিছুদিন আগে এই পরিবহনের ৪০০ চালক ২০ লক্ষ টাকা খরচে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পরিবহন সংস্থাটি উন্নত যাত্রী সেবা ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিজ খরচে এ উদ্যোগ নেয়। পরিবহন খাতে এমন উদ্যেগ সচরাচর দেখা যায় না।

এদিকে, শ্যামলী এন আর, গ্রিনলাইন, সোহাগ পরিবহন চালকদের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশ্রামের ব্যবস্থা করে। তার বাইরে শত পরিবহন সংস্থা রয়েছে যাদের সবার এরকম সুবিধা এখনও ঠিকমতো গড়ে উঠেনি।

এ প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা খুব সময়োপযোগী বলে মনে করছেন শ্যামল এন আর ট্রাভেলস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকেশ ঘোষ।

তিনি বলেন, ‘একজন চালকের ৫ ঘন্টার বেশি কর্মদক্ষতা থাকে না। বর্তমানে মহাসড়কগুলোর যে অবস্থা তাতে এটা হয়ে উঠেনি। আমাদের ১৫ হাজার গাড়ির বিপরীতে চালক আছে মাত্র ৭ হাজার। এখানে ড্রাইভার সংকট প্রকট। প্রতিটি গাড়িতে যে দু’জন করে চালক রাখার কথা সেটা বহু আগে থেকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।’

রাকেশ বলেন, ‘‘এখন দু’জন ড্রাইভার পাওয়া যায় না। এজন্য হেলপারকে সেমি ড্রাইভার মনে করে দিয়ে রাখা হয়। এটা আবার হিতের বিপরীত হয়। এখন স্রেফ প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে নির্দেশনা আসায় এটা বাস্তবায়নে খুব আশা দেখতে পাচ্ছেন শ্যামলি এন আর-এর এমডি রাকেশ ঘোষ।

সফল করা গেলে সড়কে বাস্তব একটা পরিবর্তন আসবে মনে করে তিনি আরও বলেন, ‘এতে একজন চালক ভুল চালালে দ্রুত আরেকজন ধরিয়ে দিতে পারবে। তবে এই  কনসেপ্টটা কিন্তু প্র্যাকটিস ইতোমধ্যে চলছে। ড্রাইভার দিতে পারছি না বলে হেলপার দিচ্ছি।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের উদাহরণ দিয়ে রাকেশ বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যেক রুটে গাড়িতে দু’ইজন চালক দেখা যায়। এটা তাদের নিয়ম। এখন প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বলেছেন সেহুতে বাস্তবায়ন হবেই। সেক্ষেত্রে ড্রাইভার সংকট কাটিয়ে তোলে কার্যকর করতে হবে।

গাবতলী কেন্দ্রীক একজন বাস মালিক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্দেশ দিয়েছেন শুনেছি সেগুলো কিন্তু একেবারে নতুন নয়। রাস্তার মাঝে চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা প্রায় পরিবহনের রয়েছে। চালক ও সহকারীদের প্রশিক্ষণের যে কথা বলা হয়েছে এটা একটা প্রক্রিয়াগত বিষয়। আর অনিয়মতান্ত্রিকভাবে রাস্তা পারাপার বন্ধে সরকারের সংশ্ষ্টি দফতরের তৎপরতা লাগবে।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, যে সিট বেল্ট পরানোরও বিষয়। কিন্তু দূর পাল্লার কোন বাসের সিটে সিটবেল্ট কারও নেই। এমনকি বহু দামি দামি বাসে চালকের পযন্ত সিটবেল্ট দেখা যায়না।

এখন এটা বাসের ক্ষেত্রে কিভাবে কার্যকর করা হবে তা নিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে বাস মালিকদের বৈঠকের আগ পযন্ত কোন সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি থেকে জানা গেছে, সরকার সম্প্রতি সারাদেশে ৩৬ হাজার পেশাদার গাড়ীচালক তৈরীর একটি উদ্যোগ নিয়েছে। স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম(সেইপ) প্রকল্প এবং বিআরটিসির যৌথ উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পেশাদার গাড়ীচালক হতে আগ্রহীরা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.