নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষি খাতের উন্নয়নে গুড এগ্রিকালচারাল প্রাক্টিস (গ্যাপ বা GAP) বাস্তবায়ন কার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ডিসিসিআই’র পরিচালক ইমরান আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার ইউএসএআইডি’র এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইনস (এভিসি) প্রকল্পের সহযোগিতায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “গুড এগ্রিকালচারাল প্রাক্টিস (গ্যাপ)” বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইমরান আহমেদ এসব কথা বলেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজহার আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই পরিচালক ইমরান আহমেদ বলেন,  বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ১৪.৭৫ শতাংশ। কৃষিখাতের মাধ্যমে প্রায় ২৪.৫০ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা মোট রপ্তানির মাত্র ১.৫৯ শতাংশ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র সহ ইউরোপের দেশসমূহে আমাদের কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য “গুড এগ্রিকালচারাল প্রাক্টিস (গ্যাপ)” বাস্তবায়নের উপর জোরারোপ করেন তিনি।

ডিসিসিআই পরিচালক বলেন, কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, শাক-সবজির সংরক্ষণ ও ফলমূল পাকানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক ফরমালিন সহ নানাবিধ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। যা স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর। পাশাপাশি এর ফলে বিশ্ববাজারে আমাদের কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। কৃষিপণ্য আহরণে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের স্বল্পতা, কোল্ড স্টোরেজের অপ্রতুলতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর মোট উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ১২ শতাংশ এবং শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। কৃষিপণ্যের রপ্তানি জোরদার করতে এই সমস্যাগুলো সমাধান করা দরকার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজহার আলী বলেন, বাংলাদেশে কৃষি খাতের উন্নয়নে গ্যাপের ব্যবহার, সম্প্রসারণে অপর্যাপ্ত ধারণা ও প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে। এছাড়াও গ্যাপের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা রয়েছে। তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, আমাদের প্রচলিত কৃষি খাত ক্রমশ অর্থনৈতিক কৃষির দিকে রূপ্তান্তরিত হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কৃষির উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এর বহুমুখীকরণের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব প্রদানের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সচিব বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতে গ্যাপের বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। খুব শিগগিরই কৃষি নীতি ২০১৮ ঘোষণা করা হবে, যেখানে গ্যাপ অর্ন্তভুক্ত আছে।

সেমিনারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী মো. সাইফুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, কৃষি পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক ভাবে পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে “গুড এগ্রিকালচারাল প্রাক্টিস (গ্যাপ)” আর্ন্তজাতিক মানদন্ডের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। তাই কৃষিখাতের উদ্যোক্তাদের তাদের কর্মকান্ডে গ্যাপের ব্যবহার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

ডিসিসিআই মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে গ্যাপের ব্যবহার আরও বাড়ানোর জন্য ডিসিসিআই, এভিসি প্রকল্প এবং সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.