ক্রীড়া ডেস্ক : 

আর্জেন্টিনা ২ : নাইজেরিয়া ১

ম্যাচ তখনো শুরু হতে বাকি। সারিবদ্ধভাবে মাঠে প্রবেশ করছেন দু’দলের খেলোয়াড়রা। মেসি মাঠে পা রাখতেই সেন্ট পিটার্সবাগের গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে একটাই চিৎকার- মেসি, মেসি! ভক্ত-সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দিতেই মেসি হাত তুললেন, হাসলেন। বিশ্বকাপে ম্যাচ শুরুর আগে এই প্রথম মেসির মুখে হাসি দেখা গেল। আর মাঠে মেসির গোলেই প্রথম হাসল আর্জেন্টিনা ১৪ মিনিটের সময়। এবং সেই হাসিটা থাকল ম্যাচ শেষেও! মেসির গোলেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার টিকে থাকার স্বপ্নের শুরু। আর ম্যাচের শেষ দিকে ডিফেন্ডার মার্কোস রোহোর দুর্দান্ত শটে বেঁচে থাকল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ যাত্রার স্বপ্ন। ‘ডি’ গ্রুপে রার্নাস আপ হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে আর্জেন্টিনা। নকআউট রাউন্ডে সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

শুরুর অর্ধেই নিজের দ্বিতীয় গোলটা পেতে পারতেন মেসি। দুভার্গ্য তার ফ্রিফিক নাইজেরিয়ারের সাইডপোষ্টে লেগে ফিরে আসে। তবে মেসির গোলে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনার স্বপ্ন দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অনেকখানি ফ্যাকাশে হয়ে গেল। মাচেরানো জড়িয়ে ধরে পেনাল্টি বক্সে ফেলে দেন নাইজেরিয়ার বোলোগানকে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। পরে ভিডিও দেখে রেফারি পেনাল্টিটা আরেকবার নিশ্চিত করেন। পেনাল্টি থেকে মোসেস গোল করে ম্যাচে সমতা আনেন।

আনন্দের গ্যালারিতে মুহূর্তে বিষাদের ছায়া যেন! বক্সে বসে ম্যারাডোনা বুকটা চেপে ধরেন, খুব কাছে এসেও কিছু একটা হারানোর কষ্টে! ম্যাচে সমতা আনার পর আর্জেন্টিনা পুরোপুরি যেন খেই হারিয়ে বসে।

/uploads/files/ISTOI51SIRZ2ekTjk414sNm5xSJ2oQLy10sP3SZJ.jpeg

আর নাইজেরিয়াকে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড ডাকছে, সেই জোশে তারা তখন তেঁতে উঠে। উপায় না দেখে আক্রমণভাগে খেলোয়াড় বাড়ান আর্জেন্টাইন কোচ সাম্পালিও। শেষ বাঁশি বাজার ১০ মিনিট আগে অ্যাগুইয়েরা ষ্ট্রাইকিং জোনে বাড়তি শক্তি হিসেবে যোগ দেন। ৮১ মিনিটেই আরেকবার ম্যাচে এগিয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। কিন্তু রোহোর দুর্দান্ত ক্রসে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে শট নিয়েও হিগুইন পোস্টে রাখতে পারলেন কই? গোলের জন্য বাকিটা সময় মরিয়া হয়ে উঠে আর্জেন্টিনা। ডানদিক থেকে বল ধরে দুরন্ত গতিতে মারকাডো উপরে উঠে আসেন। কর্নারের কাছাকাছি থেকে ক্রস করেন। চলন্ত সেই বলে ডিফেন্ডার মার্কোস রোহো শট নাইজেরিয়ার জালে, গো…ও..ল!

এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এটাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে মূল্যবান গোল! এই গোলেই বিশ্বকাপ আয়ু বাড়ল আর্জেন্টিনার।

/uploads/files/XF27kWGxNv9HTi8AhkeKww2aZ0GSUnjaA3FysaND.jpeg

তিন স্ট্রাইকার নিয়ে আর্জেন্টিনা এই ম্যাচ খেলতে নামে। উদ্দেশ্য পরিস্কার-জিততেই হবে। গোল পেতে হবে দ্রুত। ম্যাচের শুরুতেই সেই লক্ষ্য পুরো হয় আর্জেন্টিনার। বলা যায় পরিকল্পিত প্রথম আক্রমণ থেকেই গোল মিলল। মাঝরেখা থেকে রক্ষণ চেরা বল থ্রু করেন বানেগা। সঙ্গে থাকা এক ডিফেন্ডারকে গতিতে পেছনে ফেলে ডি বক্স থেকে সামান্য বাইরে মেসি প্রথমে বাম পায়ে হাঁটু দিয়ে বল নামান। সেই পায়ে দ্বিতীয় টাচে বল একটু সামনে নেন। মুহূর্তেই ডান পায়ে দুরপোষ্টে শট, গো..ও…ল! এই গোলেই চলতি বিশ্বকাপে নিজের উপস্থিতি ঘোষণা দিলেন যেন মেসি। টুর্নামেন্টে এটা তার প্রথম গোল।

আর এই গোলেই আর্জেন্টিনার হারিয়ে যাওয়া বিশ্বকাপের স্বপ্ন ফের পাখা মেলল। গ্যালারি জুড়ে তখন একটাই শব্দ-মে..সি! মে….সি!! ফুটবল মাঠের রূপ বদলে সেন্ট পির্টাসবার্গ তখন যেন রোমান কলোসিয়াম। চারধার ফুঁসছে। মেসির গোলের পর আর্জেন্টাইন দলকে মনে হচ্ছিল যুদ্ধ জিততে নামা চোয়াল শক্ত যোদ্ধা। মেসির শটে গোল হতেই ভিআইপি বক্সে বসা ডিয়োগো ম্যারাডোনা দু’হাত তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে যেভাবে ঈশ্বরকে ডাকছিলেন মনে হচ্ছিল এই ম্যাচে ‘ওখান’ থেকে আর্জেন্টিনার সহায়তা প্রয়োজন!

‘তিনি’ সত্যিই এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে খেললেন, হ্যাঁ একেবারে শেষ পর্যন্ত!

বিশ্বাস হচ্ছে না! তাহলে জানুন এই ম্যাচ আর্জেন্টিনা জিতেছে একজন ডিফেন্ডারের গোলে!

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.