মাসকাওয়াথ আহসান :  বিনাবিচারে হত্যা কিংবা সুবিধাভোগীদের বাজেটের প্রতিবাদে সরকারের সমালোচনার চেয়ে লেখক ও প্রকাশক হত্যার প্রতিবাদে আল্লাহ ও ইসলামের সমালোচনা শ্রেয়।

কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে লেখক ও প্রকাশককে হত্যার জন্য আল্লাহ ও ইসলামের সমালোচনা করার স্টেরিওটাইপিং-এ কেন যাবো! নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়া রাষ্ট্রের দায়। সুতরাং নাগরিক হত্যার দায়ও রাষ্ট্রের।

২০১৩ সাল থেকে শুরু করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উগ্রপন্থি জঙ্গিদের হাতে একের পর এক ব্লগার, মুক্তমনা লেখক ও অনলাইনে সক্রিয় ভিন্নমতের বেশ কয়েকজন হত্যার শিকার হন। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় খুন হন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়। একই বছরের অক্টোবরে শাহবাগের আজিজ মার্কেটে নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিরা খুন করে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সল আরেফিন দীপনকে। একই দিন লালমাটিয়ায় নিজের কার্যালয়ে ঢুকে জঙ্গিরা প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ টুটুলকে হত্যাচেষ্টা চালায়। একইভাবে ব্লগার নীলাদ্রি নিলয়, অনন্ত বিজয় দাশ ও ওয়াশিকুর বাবুকে একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। একের পর এক এমন টার্গেট কিলিংয়ের পর দেশজুড়ে সক্রিয় হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন অভিযানে নিহত হতে থাকে জঙ্গিরা। অনেক দুর্ধর্ষ জঙ্গি ধরাও পড়ে। তবে প্রকাশক দীপন হত্যার তিন বছরের মাথায় আরেক প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু প্রায় একই কায়দায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন।

২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার এখন কোন পর্যায়ে আছে? পাঁচ বছরে কতটা ন্যায়বিচার পেলো স্বজন-হারানো পরিবারগুলো? কজন অপরাধী শাস্তি পেলো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের মাঝেই লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুর হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজে পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.