ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঈদকে সামনে রেখে ঝালকাঠিতে নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর সেমাই। বাহারি রঙের চটকদার প্যাকেটে এসব সেমাই দক্ষিণাঞ্চলের হাটে বাজারে বাজারজাত করা হচ্ছে। অধিকাংশ কারখানায় বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়া এসব সেমাই উৎপাদন হচ্ছে।

সেমাই উৎপাদনের সময় হাতে গ্লাভস পরেনা শ্রমিকরা। গরমে তাদের শরীরের ঘাম ঝরে সেমাইতে মিশে যাচ্ছে । ঝুড়িতে প্যাকেটজাত সেমাই সরবরাহ ও বিক্রির কোনো বৈধতা না থাকলেও ঝালকাঠির সেমাই মালিকরা প্রকাশ্যে তা বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করে বিক্রি করছে বলে ভোক্তাদের অভিযোগ।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা নামি দামি ব্র্যান্ডের সেমাইর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সেমাই মজুত করছে।
ভালো ব্র্যান্ডের কুলসন, ম্যাকারনি, বনফুল সেমাই বিক্রি হয় প্রতিটি ৫ কেজির প্যাকেট ৩৫ টাকা করে ২৫টি প্যাকেট ৮৭৫ টাকায়। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সেমাই ৭ কেজির টুকরি বিক্রি হয় ৪২০ টাকায়। নিম্ন আয়ের মানুষের চাহিদা ও অধিক মুনাফার কথা চিন্তা করে ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অস্বাস্থ্যকর সেমাই বিক্রিতে আগ্রহী বেশি।
সরেজমিনে গত বুধবার শহরের কাঠপট্টি এলাকায় অবস্থিত কুলসুম, মিনার, মদিনাসহ একাধিক সেমাই কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, সামনে থেকে কারখানা তালাবদ্ধ করে ভিতরে চলছে নোংরা পরিবেশে সেমাই উৎপাদন। মেঝেতে কাদা আর তেলে একাকার।
সেমাই তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা গ্লোভস ছাড়া খালি গায়ে সেমাই ভাজছে। শরীরের ঘাম হাত বেয়ে সেমাইতে মিশছে। সেই সেমাই ভাজা হচ্ছে কালো নিম্নমানের পাম অয়েল দিয়ে।
দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা ট্রেতে সেমাইর ময়দা মাখা হচ্ছে। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ হতে মেয়াদোর্ত্তীণের তারিখ ১ বছর লাগিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক সেমাই কারখানায় ঝুড়িতে পলিথিন দিয়ে প্যাকেটজাত করা সেমাইর ভিতরের লেবেলে বিএসটিআইয়ের সিল দেয়া।
নূরানী লাচ্চা সেমাই কারখানার মালিক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের সেমাই স্থানীয় বাজার ছাড়াও পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া খেপুপারাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হচ্ছে। আমারা শ্রমিকদের হাতের গ্লোভস দিলেও গরমের কারণে তারা তা ব্যবহার করতে পারেনা।’
মদিনা লাচ্চা সেমাইয়ের মালিক নান্নু মিয়া বলেন, ‘আমার কারখানার পরিবেশ ভালো। শ্রমিকরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে কাজ করে। আমি বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়েই দীর্ঘদিন সেমাই উৎপাদন করছি।’
এ বিষয়ে বরিশাল বিএসটিআইর পরিদর্শক রঞ্জিত কুমার মল্লিক জানান, সম্প্রতি বেশ কিছু কারখানার বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে আবারো অভিযান চালানো হবে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ২৩ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ ঝুড়িতে পলিথিন দিয়ে প্যাকেজাত করা সেমাই বিক্রি ও নোংরা পরিবেশের জন্য ৩টি কারখানা মালিককে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩টি কারখানা মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদের সাবধান করার জন্য অভিযান চালানো হয়েছে। যাতে তারা ভালো পরিবেশে মানসম্মত সেমাই উৎপাদন করে। না করলে আরও অভিযান চালানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.