বিশেষ প্রতিনিধি : অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বসতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে অনলাইন কেনাকাটায়ও ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদানের প্রস্তাব আসছে। আগামী ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জন্য এই প্রস্তাব আসতে পারে। এর ফলে পাঠাও, উবারের মতো অ্যাপ ভিত্তিক সেবা গ্রহনকারীরা এই ভ্যাটের আওতায় আসবেন। সম্প্রতি দেশে এ ধরনের সার্ভিস যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই সার্ভিসসমূহের বৈধতা নিয়ে গত বছর সরকার প্রশ্ন তুলেছিল। এরপর মন্ত্রীসভা গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা অনুমোদন করে। পাঠাও, উবার ছাড়াও দেশে ও ভাই, বাহন, স্যাম, আমার রাইড, লেটস গো সহ বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক সার্ভিস রয়েছে।

বর্তমানে অনলাইনে কেনাকাটায় কোনো ধরনের ভ্যাট দিতে হয় না। এই প্রস্তাব পাশের পর সব ধরনের অনলাইন কেনাকাটায় এই ভ্যাট দিতে হবে। বিগত কয়েক বছরে দেশে ইন্টারনেটে বিস্তৃতি হওয়ায় অনলাইনে কেনাকাটায় মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

সূত্র জানায়, এই সেবাসমূহকে ভ্যাটের আওতায় আনতে ভার্চুয়াল বিজনেস নামে একটি সার্ভিসের সংজ্ঞা তৈরি করা হয়েছে। এতে করে অনলাইনভিত্তিক সেবা আদান-প্রদান ও পণ্য কেনাকাটা এই সেবার অন্তর্ভূক্ত হবে। যেহেতু ভার্চুয়াল বিজনেস সার্ভিসের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপে প্রস্তাবনা আসছে, তাই সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন ইন্টারনেট ব্যবহার করে যেসব সেবা দেওয়া হয়ে থাকে তাতে এই ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাপ ভিত্তিক সার্ভিসে এখন ভ্যাট দিতে হলে দেশীয় স্টার্টআপগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না। বিদেশি কোম্পানিসমূহ এক্ষেত্রে সাবসিডিয়ারি দিতে সক্ষম হলেও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ কম হওয়ায় তাদের বিদেশি কোম্পানিসমূহের সাথে টিকে থাকা কঠিন হবে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দেশীয় ছোট বিনিয়োগকারীদের একটি অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। যেহেতু এটি সেবা গ্রহনকারীকে দিতে হবে, তাই যাত্রীদের ওপর বাড়তি অর্থ প্রদানের ভার পড়বে। তারা বলছেন, শুরুতেই এ ধরনের ভ্যাট বসলে এই শিল্পটি অঙ্কুরেই শেষ হয়ে যাবে। ঠিক একইভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মটিও জনপ্রিয় হচ্ছিল। এখনই যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসে সেক্ষেত্রে মানুষ এই সেবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.