ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিনামূল্যে শ্রমিক পাঠাবে সরকার। গৃহকর্মে নিয়োজিত ১৯ ক্যাটাগরির কর্মীরা এ সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে দরকার হবে না কোন রিক্রুটমেন্ট এজেন্সীর। কর্মী পাঠাতে করণীয় নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই যৌথ কমিটি গঠিত হবে। তবে সরকারিভাবে শ্রমিক হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেতে কেউ যেন দালালের খপ্পরে না পড়েন সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

সোমবার (২৩ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এসব তথ্য জানান। গত ১৮ এপ্রিল ১৯ ক্যাটাগরিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী পাঠাতে দুই দেশের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এতে দীর্ঘ ৫ বছর বন্ধ থাকার পর দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রম বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে। আর সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতেই ওই প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত আমাদের একটি অন্যতম শ্রমবাজার। এই সমঝোতা স্মারক সইয়ের ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হল। তিনি বলেন, কর্মী পাঠাতে দেশটির সঙ্গে আগে আমাদের কোন চুক্তি ছিল না। এখন চুক্তির কারণে বড় বড় কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বন্ড সই করে তাদের কাছে কর্মী পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে রেকর্ড সংখ্যক ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। এ সময় ১৩ হাজার ৫শ ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স দেশে এসেছে।

কর্মী বাড়লেও আগের তুলনায় প্রবাসী আয় কমছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী আয়ে এক্সচেঞ্জ রেট এর প্রভাব আছে। অনেকেই আবার পরিবার নিয়ে গেলে তারা রেমিটেন্স পাঠায় না। আবার অনেকে ভিন্ন উপায়েও টাকা পাঠায়।

সরকারিভাবে মালেশিয়ায় যাওয়া কর্মীরা কেমন আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভালো আছে তা বলা যাবে না। আবার খারাপ আছে তাও বলা যাবে না। যারা গেছে তারা গড়ে ভালো আছে।’

সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব নমিতা হালদার এনডিসি বলেন, কর্মীরা এখন কারো সঙ্গে যেন যোগাযোগ না করে। যখন আমরা ডিমান্ড লেটার পাবো তখন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। কেউ টাকা পয়সা লেনদেন করলে তা অবৈধ বলে ধরে নেওয়া হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশী এক হাজার কর্মী হাজতে আছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.