‘আমাকে যে ছবিটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, আমি তো সে ছবিটিতে কাজই করিনি! আমি কেনো এ পুরস্কার গ্রহন করব?

ডেস্ক: গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২৬ ক্যাটাগরিতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ দেওয়ার ঘোষণা হয় ৫ এপ্রিল। এরপর থেকেই একটি বিষয় নিয়ে চলছে বিতর্ক। ভুলভাবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন একজন নৃত্য পরিচালক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালক হিসেবে ‘নিয়তি’ সিনেমার জন্য হাবিবের নাম ঘোষণা করা হয়। ছবিটি জাকির হোসেন রাজু পরিচালনা করেছেন। আর  প্রযোজনা করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও কলকাতার এসকে মুভিজ।

ওই ছবির জন্য পুরস্কার বিজয়ী হাবিব ২২ এপ্রিল, রবিবার প্রিয়.কমকে জানান, তিনি যে ছবিটির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন, এতে কাজই করেননি।

নিয়তি ছবির নির্মাতা জাকির হোসেন রাজুও নিশ্চিত করেছেন যে, নৃত্য পরিচালক হাবিব এ ছবিতে কাজ করেননি।

বাংলাদেশের বহু জনপ্রিয় সিনেমার নৃত্য পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন হাবিব। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে যে ছবিটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে, আমি তো সে ছবিটিতে কাজই করিনি। এ বিষয়ে পুরস্কার ঘোষণার আগে আমি কিছুই জানতাম না। আমার কথা হলো, কাজ না করে আমি কেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিব? এটা আমার বিবেকে বেধেছে।

আমি যে ধরনের কাজ করি, তাতে করে আমাকে আমার কাজের জন্যই পুরস্কৃত করা হোক। কাজ না করে আমি স্বীকৃতি চাই না। কিন্তু কাজ না করার পরও কীভাবে আমার নাম গেল, তা আমি জানি না। এ পুরস্কার আমি গ্রহণ করব না।’

বিষয়টি নিয়ে ২১ এপ্রিল, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘চলচ্চিত্র পরিবার’। সেখানে এ সংগঠনটির আহ্বায়ক ও বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়ক ফারুক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

জানতে চাইলে রবিবার ফারুক বলেন, ‘‘জাজ মাল্টিমিডিয়া কলকাতার সঙ্গে ছবিটি বোধহয় অন্যায়ভাবে করেছে। সেখানে কলকাতার একজন ড্যান্স ডিরেক্টর কাজ করেছে। তার নাম তো দিতে পারে না। এরপর তারা আমাদের দেশের নৃত্যপরিচালক হাবিবের নাম দিয়ে দিয়েছে। অথচ এ ছেলেটি ছবিতে কাজই করেনি।

আমার কাছে যখন বিষয়টি নিয়ে এসেছে, আমি বললাম, ‘এটা অন্যায়, যথাযথ নিয়মে হওয়া উচিত।’ এক ধরনের ক্রাইমও। এখন বিষয়টি তো তথ্য মন্ত্রনালয়ের ওপর নির্ভর করছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে এর দায় সবাইকেই নিতে হবে।’’

এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (চলচ্চিত্র অধিশাখা) শাহীন আরার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রিয়.কম। তিনি বলেন, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য তো প্রযোজক আবেদন করেছে। নৃত্য পরিচালক হিসেবে হাবিবের নাম লেখা রয়েছে। এটা তো আমাদের দায়-দায়িত্ব না প্রতিটা সিনেমা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর নৃত্য পরিচালক তো আর পর্দায় থাকেন না।

প্রযোজক যারা আবেদন করেন, তার নামটাই আমরা পাই। তারপরও এ কাজটা করে থাকে সেন্সর বোর্ড। যেকোনো কিছু জানতে তাদের সঙ্গে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন। নৃত্য পরিচালক সমিতি এ বিষয়ে একটি অভিযোগ জানিয়েছে। আমরা এ বিষয়টি সেন্সর বোর্ডকে জানিয়েছি। হাবিব যদি বলে কাজটি সে করেনি, তাহলে তাকে বিষয়টি লিখিত দিতে হবে।’’

২০১৬ সালে ‘নিয়তি’ ছবিটি মুক্তি পায়। সে সময় জাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘নিয়তি’ ছবির প্রযোজক তারা। এমনকি সহ-প্রযোজক ভারতের এসকে মুভিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘নিয়তি’ ছবির যে ট্রেইলার দেখা যায়, সেখানেও সহ-প্রযোজক হিসেবে জাজ মাল্টিমিডিয়ার নাম রয়েছে। অথচ এখন তারা বলছে, ছবিটি শুধু তারা পরিবেশনার দায়িত্বে ছিল।

এ বিষয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ রবিবার বলেন, ‘ছবিটা তো জাজের না, আমরা শুধু পরিবেশনায় ছিলাম। আমার কথা হলো, তারা বলতেছে বলুক। আমরা চুপচাপ থাকি। এটা বুদ্ধিমানের কাজ। যা হবে, হোক।’

ছবির সেন্সর ছাড়পত্রে ছবিটির প্রযোজক হিসেবে রয়েছে আনিসুর রহমানের নাম। আর ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হচ্ছে এএইচ এন্টারটেইনমেন্টকে।

আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত রয়েছি। এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। পরে ফোন করেন, তখন কথা বলব।’

বিষয়টি নিয়ে সেন্সর বোর্ডের সাবেক সচিব মুন্সি জালাল উদ্দিনের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার কলটি রিসিভ হয়নি।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৬ চূড়ান্তভাবে প্রকাশ হওয়ার আগে নৃত্য পরিচালক বিভাগে একমাত্র প্রতিযোগী ছিলেন হাবিব। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘অনেক দামে কেনা’ সিনেমায় নৃত্য পরিচালনার জন্য বিকল্প হিসেবেও তার নামই ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.