প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সেই ১৯৭২ সাল থেকেই চালু রয়েছে। আর এটা বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কারও করা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি যে আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে, তাতে কোটা পদ্ধতির আর দরকার নেই। এখন থেকে আর কোটা পদ্ধতি থাকবে না।

বুধবার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানকের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী এসময় বলেন, এ অস্থিরতা একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়। আমরা যখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছি, সারাবিশ্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রশংসিত হচ্ছে, তখনই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে পিছিয়ে দেয়ার একটা তৎপরতা দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ তো আমি শুরু করেছি। শিক্ষাকে সব সময় গুরুত্ব দিয়েছি। বহুমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে কর্মক্ষেত্রও বাড়ে। শিক্ষাক্ষেত্রে যা যা দরকার সবই করে যাচ্ছি। কিন্তু ডিজিটাল শিক্ষাকে ভালো কাজে না লাগিয়ে গুজব ছড়ানোর কাজে লাগানো হচ্ছে। হঠাৎ ‘কোটা চাই না’ বলে আন্দোলন শুরু হলো। লেখাপড়া বন্ধ, রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ, রোগীরা হাসপাতালে যেতে পারছে না। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে রাত ১টায় হলের গেট ভেঙে মেয়েরা রাস্তায় নেমে এলো। কোনো অঘটন ঘটলে দায়িত্ব কে নিতো। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা হলো ভিসির বাসায় হামলা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা তো ঢাবিতে ছিলাম। কখনো ভিসির বাসায় কোনো ছাত্র আক্রমণ করতে পারে, ভাঙচুর করতে পারে না। তাও কেমন আক্রমণ? ছবি দেখে মনে হয়েছে একাত্তরের কথা। সেই একই দৃশ্য। ছেলে মেয়েরা ভয়ে লুকিয়ে ছিলো। সিসি ক্যামেরা ভেঙেছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বিশবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর উপযুক্ত নয়। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, তারা দাবি করেছে। আমরা তো বসে নেই। ওবায়দুল কাদের তাদের সাথে বসলো। আমি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বললাম পরীক্ষা, নিরীক্ষা করুন। সেটা জানানো হলো। অনেকে মানলো, অনেকে মানলো না। কেন? যখন আলোচনা চলছে, তখন আন্দোলনের কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে! ছাত্ররা এমন ধ্বংসাত্মক কাজ কেন করবে। মেয়েরা গভীর রাত কেন হল থেকে বেরিয়ে এলো। তাদের বার বার বলা হলো বিষয়টি আলোচনার টেবিলে। তারা কোনো কিছু মানবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা নীতি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করি। ১৯৭২ সাল থেকে কোটা পদ্ধতি চলছে। বিভিন্ন সময়ে সংস্কার হয়েছে। কোটা পূরণ না হলে মেধাবী তালিকা থেকে সব সময়ই নেয়া হচ্ছে। তারা কি এটা জানে না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও একই সুরে কথা বলছেন। যারা কোটায় চাকরি পায়, তারাও লিখিত পরীক্ষায় টিকে আসছে। তারাও তো মেধাবী। কিন্তু স্বাভাবিক একটি বিষয় নিয়ে আর বিশৃঙ্খলা চাই না। তারা যখন বুঝতেই চাইছে না, তখন কোটা পদ্ধতিরই আর দরকার নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.