ডেস্ক : ফিলিপাইনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা খুলে দিতে ইউরোপের প্রতি আহবানও জানিয়েছেন তিনি।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় প্রেসিডেন্ট ভবনে কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে দুতার্তে বলেন, ‘সেখানকার লোকদের প্রতি আমি সমব্যথী। আমি শরণার্থীদের গ্রহণে (আশ্রয় দিতে) আগ্রহী। হ্যাঁ, রোহিঙ্গাদের ভাগ করে নেয়া উচিত ইউরোপকেও।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন প্রেসিডেন্ট। রোহিঙ্গা নির্যাতনের কারণে মিয়ানমারের প্রতি তীব্র ন্দিা জানিয়ে দুতার্তে বলেন, ‘সেখানে গণহত্যা চলছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।’

এদিকে, দুতার্তের এসব বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারের সরকার প্রধানের মুখপাত্র জ্য তাই বলেছেন, ‘দুতার্তের মন্তব্য সত্যিকারের পরিস্থিতিকে উপস্থাপন করে না। কারণ তিনি মিয়ানমার সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তাছাড়া এই লোকের অভ্যাসই হলো বেসামাল কথাবার্তা বলা!’

গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরু করলে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে থাকে লাখো রোহিঙ্গা। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মতে, মিয়ানমারের বাহিনী রাখাইনে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ চালিয়েছে, যাতে প্রাণ গেছে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পালিয়ে এসেছে ৭ লাখ রোহিঙ্গা, সবমিলিয়ে যে সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত নভেম্বরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ থামাতে বাধ্য হয়। এরপর রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছালেও এক্ষেত্রে গড়িমসি করছে মিয়ানমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.