ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬ জনের সঙ্গে আজ ঢাকায় স্বাক্ষাৎ করেছেন সফররত পোপ ফ্রান্সিস। বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে এসে এই প্রথম তিনি রোহিঙ্গাদের নাম উচ্চারণ করেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর আগে তিনি মিয়ানমার সফরের সময় রোহিঙ্গা শব্দটি কৌশলে এড়িয়ে যান। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গা সম্বোধন না করায় পোপের সমালোচনা করেন। জাতিসংঘের এই নিপীড়নকে জাতিগত নিধন হিসেবে উল্লেখ করে।

তবে, পোপ মিয়ানমার যাওয়ার আগে রোহিঙ্গাদের আপন ভাই-বোন বলে সম্বোধন করেন। যার কারণে তার সফরের আগে মিয়ানমান সরকার পোপকে শব্দটি না বলার অনুরোধ জানায়।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সফরকালে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করতে পোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কার্ডিনাল চার্লস মং বো।  মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের আর্চবিশপের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করলে সেখানে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে জানান তিনি।

সীমান্ত এলাকার শিবির থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা ১৬জন শরণার্থীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পোপ বলেন, ‘আপনাদের যারা নির্যাতন করেছে, আঘাত দিয়েছে , আমি আজ তাদের হয়ে ক্ষমা চাই। আজ সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের মাঝেও। আপনাদের বড় হৃদয়ের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি’।

উল্লেখ, গত আগস্ট থেকে  প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা দেশটির সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে প্রান বাঁচাতে বাংলাদেশে চলে আসে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সেদেশে রোহিঙ্গাদের জাতিগোষ্ঠী হিসাবে স্বীকার করে না। তারা রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ বাঙালি’ হিসেবে বিবেচনা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.