ঢামেক প্রতিনিধি : চিকিৎসকদের মারধরের প্রতিবাদে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা বন্ধে পর তারা তাদের কর্মবিরতি স্থগিত করেছেন।

বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের- ঢামেকে মঙ্গলবার সকালে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বহির্বিভাগ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন।

বহির্বিভাগের সামনে বিক্ষোভ করে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা পরে মানববন্ধন করেন তারা এতে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা।

চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

এদিকে, রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেন, চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে এই ধরনের কর্মবিরতি সমর্থনযোগ্য নয়।

চিকিৎসকদের দাবি- হামলাকারীদের শাস্তি প্রদান, হাসপাতালে দর্শনার্থীর পাস বাধ্যতামূলক করা ও প্রয়োজনে হাসপাতালে চত্বরে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন।

এ দাবিতে সকাল সোয়া ৯টা থেকে বহির্বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং অনারারি মেডিকেল অফিসাররা। বর্হিবিভাগের বাইরের গেট বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগি ও স্বজনরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।

বেলা আড়াইটার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন ঢাকা মেডিকেলের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক।

ঢামেকের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া বলেন, সকালে বিভিন্ন দাবি নিয়ে তারা এ আন্দোলন শুরু করেছেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকেদের দাবির মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের ভেতরে পাস ছাড়া কোনো রোগীর স্বজনকে ঢুকতে না দেয়া, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারসহ আরো কিছু দাবি রয়েছে তাদের।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা চলে ফলে সেটা বন্ধ থাকায় রোগীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।

বহির্বিভাগের ওয়ার্ডমাস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে টিকিট বিক্রি শুরু করার মুহূর্তে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তা গত রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউ-এ চিকিৎসাধীন নওশাদ নামের এক রোগির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্বজনরা চিকিৎসদের ওপর চড়াও হন। এতে চারজন চিকিৎসক ও কয়েকজন নার্সসহ আহত হন তিন আনসার সদস্য। শামীমুর রহমান নামের এক চিকিৎসকের হাতও ভেঙে যায়।

এর প্রতিবাদে ওইদিন বেলা ২টা থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিকাল ৫টার দিকে জরুরি বিভাগের সেবা আবার চালু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.