৫ অক্টোবর খালেদাকে অাত্মসমর্পণের নির্দেশ

 ৫ অক্টোবর খালেদাকে অাত্মসমর্পণের নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক : স্বাধীনতা-বিরোধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে এবি সিদ্দিকীর মানহানির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অাগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে অাদালতে অাত্মসমর্পণের নির্দশ দিয়েছেন অাদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নূর নবী রোববার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে শেষবারের মতে সময়ের অাবেদন মঞ্জুর করে অাত্মসমর্পণ করার জন্য এ নির্দেশ দেন।

এদিন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনের ওপর শুনানি করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ।

শুনানিতে তিনি বলেন, মামলাটিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে সমনের জবাব দেওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হচ্ছেন না। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হোক।

অাদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, যেহুতু এটি মানহানি মামলা। অভিযোগ গুরুতর নয়। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাই শেষবারের মত তাকে সময় দেওয়া হলো।

এর আগে চলতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর গত ২২ মার্চ তা আমলে নিয়ে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রিপরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, আলবদর, আল শামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান।

পরবর্তীতে ওইসব ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার মধ্যে তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রীত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতা-বিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীত্ব প্রদান করে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে স্বাধীনতা-বিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভুলণ্ঠিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে সিএমএম আদালতে একটি মানহানির মামলা করেন।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.