বিদ্রোহীদের অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

 বিদ্রোহীদের অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

অান্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের অস্ত্রবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার। বিদ্রোহীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে তারা।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা যোদ্ধাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি-আরসা’র পক্ষ থেকে রাখাইন রাজ্যে একমাসের অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।

আরসা জানিয়েছে, রোববার থেকেই এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবে। একতরফা এই অস্ত্রবিরতি ঘোষণার পাশাপাশি সংগঠনটি মিয়ানমার সেনাবাহিনীকেও তা পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

আরসা’র যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ তাই এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমঝোতা করার কোনো ভাবনা আমাদের নেই।’

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে আরসা বলেছিল, ‘মানবিক দিকের বিষয়টি সবসময় উৎসাহিত করে আরসা। অসহায় প্রতিটি মানুষের এখন এই সহায়তা প্রয়োজন। সে কারণেই আমরা অস্ত্রবিরতিতে যাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখা হয় স্থলমাইন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা এবং নারীদের গণধর্ষণের অভিযোগ উঠে। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। নিহত হয়েছেন প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা।

প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের বেগে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর মুখপাত্র ভিভিয়ান তান জানান, গত কয়েকদিনে জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.