রাঙ্গামাটির মেয়াদোত্তীর্ণ পূজা কমিটিতে অনাস্থা

 রাঙ্গামাটির মেয়াদোত্তীর্ণ পূজা কমিটিতে অনাস্থা

রাঙামাটি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মেয়াদোত্তীর্ন রাঙ্গামাটির কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে রাঙ্গামাটির সনাতনী হিন্দু নাগরিক সমাজ। ঘোষনা করা হয়েছে অন্তঃবর্তী কালীন রাঙ্গামাটিতে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নামে নতুন কমিটি।
সনাতন হিন্দু ধর্মালবম্বীদের আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্নভাবে উদযাপনের জন্য ২৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
রবিবার (৩সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাঙ্গামাটি জেলার সকল মঠ মন্দিরের প্রতিনিধি ও সনাতন সমাজের ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সাধারণ সভায় অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ন ৭ বছরের রাঙ্গামাটির কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে এ আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়।
আহবায়ক কমিটিতে রাঙ্গামাটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বাদল চন্দ্র দে কে আহবায়ক ও সমাজ সেবক স্বপন কান্তি মহাজনকে সদস্যসচিব করে ২৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। এ কমিটি আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপনে রাঙ্গামাটির সকল মঠ মন্দিরে সার্বিক সহায়তা ও সমন্বয় করবে এবং পূজা শেষে যতদ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা কমিটি গঠনে সন্মেলন আয়োজনের উদযোগ নেবে। রাঙ্গামাটির সকল এবং ১০ উপজেলার মঠ মন্দিরের ২৫০ জন প্রতিনিধি ও সনাতন সমাজের ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সর্বসন্মত ভাবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়।
গত ১৪ আগষ্ট অনুষ্ঠিত রাঙ্গামাটির বিভিন্ন মঠ মন্দিরের প্রতিনিধি ও সনাতন সমাজের ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সভায় গঠিত যোগাযোগ ,সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটি এ সাধারণ সভার আয়োজন করে। যোগাযোগ,সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক বাদল চন্দ্র দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিসদ সদস্য ত্রিদিপ কান্দি দাশ, জেলা পরিষদ সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন যোগাযোগ,সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব স্বপন কান্তি মহাজন।
সাধারণ সভায় যোগাযোগ,সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যবৃন্দ ও প্রত্যেক উপজেলার মঠ মন্দিরের প্রতিনিধিগন বক্তব্য দেন।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিসদ সদস্য ত্রিদিপ কান্তি দাশ বলেন, যে কোন মূল্যে সনাতনী সমাজকে এক থাকতে হবে। ঐক্য ধরে রাখতে হবে। নিজেদের ভাগ্যের কথা নিজেদের ভাবতে হবে। বিগত দিনের কথা ভুলে আমাদের চলতে হবে। তিনি বলেন অন্যান্য যে কোন সময়ের তুলনায় বতৃমান আওয়ামীলীগ সরকারের ৯ বছরের শাসন আমলে পার্বত্য এলাকায় মঠ মন্দিরের যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে আর কোথাও কখনো তা হয়নি। কিন্তু এত কিছুর পরও জন্মাষ্টমীর দিনে সরকারকে অবজ্ঞা করার যে খারাপ দৃষ্টান্ত দেখানো হয়েছে তা সনাতনী সমাজের মানুষের মনে ক্ষত করেছে। এ অবস্থা সনাতনী সমাজ কখনো মেনে নেবেনা।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিসদ সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, জন্মাষ্টমীর দিনে যে ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে তাতে সনাতনী সমাাজের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃস্টির অপচেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ন পূজা উযাপন পরিষদের এ কাজের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন পার্বত্য রাঙ্গামাটির কোন মঠমন্দিরে যে কোন উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়নি তাকে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে অতিথি করা হয়েছে আর যারা রাঙ্গামাটির মঠমন্দিরের উন্নয়নে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন , যারা সনাতনী সমাজের পরম বন্ধু তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন না জানিয়ে অবজ্ঞা করা হয়েছে। তিনি সনাতন সমাজের সেন্টিমেন্ট ভিন্ন খাতে নেয়ার যে পায়ঁতারা চলছে তা থেকে সর্তক থাকার আহবান জানান।
সাধারণ সভায় যোগাযোগ,সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও উপজেলার মঠ মন্দিরের প্রতিনিধিগন তাদের বক্তব্যে বলেন, রাঙ্গামাটি পূজা উদযাপন পরিষদ নির্দিষ্ট মেয়াদোত্তীর্ন হওয়ার পরও ৭ বছরেও কোন সন্মেলন না দিয়ে অবৈধভাবে কাজ করছে। তাদের কার্যকাল সময়ে উপজেলার কোন মঠ মন্দিরে তাদের কোন সাহায্য সহায়তা পাওয়া যায়নিদ্বারা সনাতন সমাজের কোন জন কল্যান হয়নি। এ মেয়াদোত্তীর্ন কমিটিকে সনাতনী অনাস্থা দিয়েছে। যা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রিয় কমিটির বরাবরে যথযথ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রিয় কমিটির নির্দেশে চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ রাঙ্গামাটিতে আলাপ আলোচনার জন্য এসেও কোন সুরাহা করতে পারেননি। বরং ্এক পক্ষের সঙ্গে কোন আলোচনা না করে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন।
ব্ক্তারা বলেন, ৩ বছরের জায়গায় জোর করে ৭ বছর ক্ষমতা ধরে রেখে এ মেয়াদোত্তীর্ন কমিটির কারনে হিন্দু সমাজ উপহাসের শিকার হয়েছে। রাঙ্গামাটির সনাতনী সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মেয়াদোত্তীর্ন কমিটি আর মেনে নেয়া হবেনা । রাঙ্গামাটির বৃহত্তর সনাতনী সমাজ ক্ষুব্ধ। তাদের কথা শুনতে হবে। দুর্গাপূজা উদযাপনের পর সন্মেলনের মাধ্যমে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠবে বলে বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাধারণ সভায় বিগত সভার কার্য বিবরণী পাঠ করেন যোগাযোগ, সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য পরেশ মজুমদার।
পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শিক্ষক বাদল চন্দ্র দে এর সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ত্রিদীপ কান্তি দাশ, জেলা পরিষদ সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, বিশিষ্ট সনাতনী ব্যাক্তিত্ব অমলেন্দু হাওলাদার, রাঙ্গামাটি গীতাশ্রম মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশিষ দাশ গুপ্ত, রাঙ্গামাটি নারায়ন মন্দিরের সভাপতি আশিষ চৌধুরী, রাঙ্গামাটি শংকর মিশনের সভাপতি দিলীপ নন্দী, রাঙ্গামাটি কৈবল্য কুঞ্জ মন্দিরের প্রতিনিধি বাবলা মিত্র, রাঙ্গামাটি গর্জনতলী দূর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ঝিনুক ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি ভেদভেদী কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রিপন ঘোষ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ লংগদু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রতন চৌধুরী, পূজা উদযাপন পরিষদ বিলাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি সুকুমার চক্রবর্ত্তী, কাপ্তাই উপজেলা শাখার সভাপতি দীপক ভট্টচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক সাগর চক্রবর্ত্তী, কাউখালী উপজেলার সভাপতি মিলন পালিত, নানিয়ারচর উপজেলার জগন্নাথ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন দাশ, পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গামাটি জেরা শাখার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সুধীর দাশ, প্রাক্তন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মিলন নন্দী নান্টু’সহ জেলার অন্যান্য উপজেলা ও বিভিন্ন মঠ মন্দিরের নের্তৃবৃন্দরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার যোগাযোগ, সমন্বয় ও বাস্তবায়ন সদস্য সচিব স্বপন মহাজন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার যুগ্ন সম্পাদক দেবব্রত চৌধুরী কুমকুম।

mimmahmud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.