বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকায় করতোয়া নদীর উপর অবস্থিত উত্তরবঙ্গে প্রবেশের প্রধান সংযোগের একমাত্র ব্রিজ এটি। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিজটির মাঝখানে আকস্বিক ফাটল দেখা দেয়। এরপর অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা পরিক্ষা নিরীক্ষার একপর্যায়ে ব্রিজটির ফাটলস্থানে ৬০ফুট বরাবরে একটি লোহার বেইলী ব্রিজ স্থাপন করা হয়। তার ৩দিন পরে আবারও বেইলী ব্রিজটির মাঝখানে ফাটল ধরে দেবে যায়। সেটিও ওয়েল্ডিং ঝালাইয়ে দ্রুত মেরামত করা হয়। এ ব্রিজটি বর্তমানে এক মূখী হওয়ায় যানবাহন গুলো এক গতিতেই চলে। ফলে অন্য সব যানবাহন পাস করতে পারে না। এজন্য এক শাড়ি গাড়ি ব্রিজের উপর দিয়ে অতিক্রম করলে আর এক শাড়ি গাড়ি ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। সে কারণে ব্রিজের এপার-ওপার এসে গাড়ির বহরে আটকা পড়ছে অসংখ্য যানবাহন।
আর এখান থেকেই শুরু হয় মূল ভোগান্তির পালা। যানজটে আটকে পড়া গাড়ির চাকা যেন ঘুরতেই চয়না।
প্রায় মাসখানেক ধরে উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলার মানুষের জনজিবন যেন এখানেই থেমে আছে। এব্রিজটি এখন চালক ও দূরপাল্লা যাত্রীদের জিবনের বড় একটি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জোরাতালি কাজ করেও তো তেমন একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং এ সমস্যায় ঈদুল আজহার আগে ও পরে ঘরমুখো ও কর্মস্থলমুখি মানুষদের ভোগান্তির মাত্রা বেড়েছে কয়েকগুণ। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় কর্মস্থলমুখি মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হলে যানজট এবং ভোগান্তির এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের বগুড়ার উত্তরে শেষ সীমানা রহবল ও একটু আগে গেলে গোবিন্দগঞ্জ, ফাঁসিতলা। দক্ষিণে পাকুরতলা, মোকামতলা, হাতিবান্ধা, চন্ডিহারা এবং মহাস্থান ব্রিজ। সেতুর দক্ষিণে রাজধানীমুখী গোকুল, বাঘোপাড়া, মাটিডালী, চারমাথা, তিনমাথা হয়ে বগুড়া শহর।
করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত বগুড়ার মহাস্থান ব্রিজ ফাটল ধরায় উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলা থেকে কর্মস্থলমুখি মানুষ ঢাকায় যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী যানগুলো সেতুর উত্তরে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় পৌঁছামাত্র গতি ধীর হয়ে আসতে থাকে। এভাবে ধীর গতির একপর্যায়ে মোকামতলায় এসে যানগুলো বাধ্য হয় আটকা পড়তে।
সেখান থেকেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওয়ান ওয়ে নিয়ম মেনে যানগুলোকে সেতু পার হতে হচ্ছে। থেমে থেমে ও অত্যন্ত ধীর গতিতে যানবাহন গুলো পার করে দেওয়ার কারণে ব্রিজের দু’ধারে সব সময় প্রায় ১৫ কিলোমিটারের মতো এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
বগুড়ার শিবগঞ্জের রহবল থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল পর্যন্ত মহাসড়কের দুরুত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। এতে করে মহাস্থান ব্রিজের সব মিলিয়ে যানজটের সরাসরি কমবেশি প্রভাব পড়ছে মহাড়কের এই ৯০ কিলোমিটারে। বগুড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ব্রিজে ফাটল ধরায় মহাস্থান বাজার হয়ে মোকামতলা পর্যন্ত গাড়ি চলাচলের বিকল্প পথ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলমুখি সব ধরনের যান বিকল্প এই পথ ব্যবহার করে চলাচল করবে।
আর ঢাকামুখি সব ধরনের যান ব্রিজ হয়ে চলাচল করছে। তবে যানবাহনের অত্যাধিক চাপ থাকায় অত্যন্ত ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করছে। এ কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রিজটির উত্তরে যানজটের মাত্রা ভয়াবহ বলেও স্বীকার করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী ঈদের আগ থেকেই সেতুর মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে নদীর পানি বেশি থাকা ও স্রোতের কারণে কাজ তেমন একটা এগোয়নো যায়নি। ৪০টি পাইপ ৬০ ফুট মাটির নিচে ঢুকাতে হবে।
সেই পাইপের সঙ্গে ফেটে যাওয়া বিমগুলো লাগিয়ে দেওয়া হবে। এরমধ্যে ১৫টি পাইপ মাটির নিচে ঢুকানোর কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। বাকিগুলো খুব দ্রুত কাজ শেষ করা হবে। সবমিলিয়ে ১ সপ্তাহর মত সেতুর মেরামত কাজ শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দিনভর ছিল ব্রিজের উভয় পাশে হাজার হাজার যানবাহন যানজটে আটকা। যা রাত ১২টা পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো ছিল। এই মহা যানজট দেখে স্থানীয়রা বলছেন অতীতের চেয়ে বিরল যানজট এটি। মহাস্থানগড় এলাকাবাসী প্রতিবেদককে জানান, দ্রুত এই ব্রিজটি নতুন করে সস্কার না করা হলে জোড়াতালি দিয়ে কোন ফল হবে না। এতে মানুষের ভোগান্তি আরও চরম পর্যায়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.